মোঃ দিদারুল ইসলাম, চট্টগ্রাম >>> চট্টগ্রাম নগরীতে প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার সময় আশপাশে অনেক মানুষ থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেননি।বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার আমিন জুট মিল এলাকার মিদ্যাপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম খোরশেদ আলম। তিনি পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ছিলেন।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, তিন ব্যক্তি খোরশেদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁকে ধাক্কা দিতে থাকেন। পরে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। আঘাতে খোরশেদ রাস্তায় লুটিয়ে পড়লেও নিস্তেজ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে বেধড়ক পেটানো হয়। একপর্যায়ে তাঁর নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, গলির রাস্তায় প্রকাশ্যে এই নৃশংস হামলার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করলেও কেউ এগিয়ে আসেননি।স্থানীয়রা খোরশেদকে উদ্ধার করে রাতেই হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতের মাথা ও মুখমণ্ডলে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির জানান, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে মারধরের সঙ্গে জড়িতদের একজন মো. হোসেনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।এক প্রশ্নের জবাবে ওসি জানান, নিহত খোরশেদ ও হামলাকারীদের মধ্যে পূর্বশত্রুতা বা পুরোনো বিরোধের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মুখের দুর্গন্ধ নিয়ে কথা-কাটাকাটির জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।উল্লেখ্য, এর আগেও বায়েজিদ বোস্তামী থানার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। গত সোমবার সেখানে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় এক র্যাব কর্মকর্তা নিহত এবং তিনজন আহত হন।











মন্তব্য