ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ছড়িয়ে পড়া বর্তমান ইবোলা প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রাদুর্ভাবের গতিপ্রকৃতি ২০১৪-২০১৬ সালের সেই ভয়াবহ মহামারিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে, যাতে প্রায় ১১ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। চলতি বছরের ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হলেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাসটি মূলত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই সংক্রমিত হতে শুরু করেছিল।
প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ ম্যালেরিয়া বা টাইফয়েড ভেবে ভুল চিকিৎসা নেওয়ায় ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত ৪,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃতের সংখ্যা ২,০০০ ছাড়িয়েছে। বর্তমানে ইবোলার বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ প্রজাতির সংক্রমণ ঘটছে, যার কোনো স্বীকৃত ওষুধ বা অনুমোদিত ভ্যাকসিন এখনো বাজারে নেই। কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্তদের মাত্র ৩০ শতাংশের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আফ্রিকা বিষয়ক পরিচালক ড. মোহাম্মদ জানাবি। তবে আশার খবর হলো, বৃটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত এই বিরল প্রজাতির ইবোলা টিকার হিউম্যান ট্রায়ালের অনুমোদন দিয়েছে দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পাশাপাশি, কঙ্গোতে বর্তমানে প্রচলিত দুটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করেছে ডব্লিউএইচও।
সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস জানান, ২০২৬ সালের এই প্রাদুর্ভাব যেভাবে ছড়াচ্ছে, তা ২০১৪-২০১৬ সালের প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে, যে সময় প্রায় ১১ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
সূত্র: মানবজমিন


মন্তব্য