বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ১৫৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। এই জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। ম্যাচে ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ম্যাচসেরা হয়েছেন শেখ পারভেজ জীবন। তিনি ১৮ বলে ৩৫ রান করার পাশাপাশি বল হাতে মাত্র ১৬ রান খরচ করে ৫টি উইকেট শিকার করেছেন।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। মাত্র ১১ রানের মধ্যে জাওয়াদ আবরার, ইকবাল হোসেন ও রিজান হোসেনকে হারিয়ে দল চাপে পড়ে যায়। এরপর শাহরিয়ার সাকিব ২১ রান করে ফিরলে বিপদ আরও বাড়ে। অধিনায়ক কালাম সিদ্দিকী এলিন ৩৪ রান করে রানআউট হওয়ার পর আবদুল্লাহ ও আহরার আমিন পিয়ান দলের হাল ধরেন। এই দুই বাঁহাতি ব্যাটার ১০৯ বলে ১০৩ রানের জুটি গড়েন। পিয়ান ৬২ বলে ৬১ রান করেন এবং আবদুল্লাহ ৯৪ রানের চমৎকার ইনিংস খেলেন। শেষদিকে জীবনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ২৯০ রানের বড় সংগ্রহ পায়। মালয়েশিয়ার পক্ষে আরিফ উল্লাহ ৪টি উইকেট নেন।
২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মালয়েশিয়া শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। দলীয় ৫০ রানের আগেই সফরকারীরা ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে। ৭৬ রানে তাদের ৮ জন ব্যাটার সাজঘরে ফিরে যান। নবম উইকেটে আহমেদ জুবাইদি জুলকিফলে ও সৈয়দ জুনায়েদ খান ৪৬ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। জুবাইদি ৬৬ বলে ৪২ রান করে জীবনের বলে এলবিডব্লিউ হন। এরপর জুনায়েদকে বোল্ড করে জীবন তার পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়া ১৩৭ রানে গুটিয়ে যায়।
বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে জীবন ৭.৫ ওভারে ১ মেডেনসহ ১৬ রানে ৫ উইকেট নেন। এছাড়া স্বাধীন ইসলাম ৯ ওভারে ৩ মেডেনসহ ৩২ রানে ২ উইকেট এবং বাঁহাতি পেসার মারুফ মৃধা ২০ রানে ২ উইকেট শিকার করেন। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে আগামীকাল একই মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
জীবনের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে গতকাল প্রথম ওয়ানডেতে মালয়েশিয়াকে ১৫৩ রানে হারালো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল।
এ ছাড়া, আবদুল্লাহর ব্যাট থেকে আসে ৯৪ রান, পিয়ান করেন ৬১ রান।
তবে ২৬ বলে ২১ রান করে ফিরে যান তিনি।
টপ অর্ডার ব্যাটারদের ব্যর্থতার ভিড়ে প্রতিরোধ গড়েন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও আহরার আমিন পিয়ান।
পরে বল হাতেও ঘূর্ণি জাদু দেখান তিনি।
এরপর পঞ্চম উইকেটে আবদুল্লাহ ও এলিন মিলে গড়ে তোলেন ৪৯ রানের জুটি।
ভুল বোঝাবুঝিতে এলিন রানআউট হলে ভাঙে এই জুটি।
অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ৫৬ বলে ৩৪ রান।
একপর্যায়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১০৮ রান।
সেখান থেকে বাকি ২৫ ওভারে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে তারা যোগ করে ১৯২ রান।
দলকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন মূলত আবদুল্লাহ ও পিয়ান।
অন্যদিকে, সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগালেও পূর্ণতা দিতে পারেননি আবদুল্লাহ।
২ চারের সঙ্গে ৩টি ছক্কা মেরে ১৮ বলে করেন ৩৫ রান।
মালয়েশিয়ার পক্ষে ৫৩ রানে ৪ উইকেট নেন আরিফ উল্লাহ।
এরপর মালয়েশিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দেন অফ স্পিনার জীবন ও লেগ স্পিনার স্বাধীন ইসলাম।
দলীয় পঞ্চাশের আগে চার উইকেট হারিয়ে ফেলার পর ৭৬ রানে অষ্টম ব্যাটার ড্রেসিংরুমে ফিরে যান।
সূত্র: মানবজমিন


মন্তব্য