নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা।। বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংস্থা জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড় এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদের শেষ দিকে এসে কে হবেন তার উত্তরসূরি, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে জোর আলোচনা। সাম্প্রতিক এক রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন চার শীর্ষ প্রার্থী। তবে দীর্ঘ বিতর্কের পরও এখন পর্যন্ত কাউকেই স্পষ্ট বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।
লড়াইয়ে যারা আছেন >> এবারের নির্বাচনে চারজন হেভিওয়েট প্রার্থী মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তারা হলেন:মিশেল বাচেলেত: চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার।
রাফায়েল গ্রসি: আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) বর্তমান মহাপরিচালক।রেবেকা গ্রিনস্প্যান: জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা ‘আঙ্কটাড’ (UNCTAD)-এর প্রধান।ম্যাকি সাল: সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক এই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন চাকুরির সাক্ষাৎকার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি ও লক্ষ্য >>
শান্তি রক্ষা, উন্নয়ন এবং মানবাধিকার—জাতিসংঘের এই তিন মূল স্তম্ভকে শক্তিশালী করাই প্রার্থীদের প্রধান লক্ষ্য। ইউক্রেন, গাজা, সুদান ও ইরানের মতো চলমান বৈশ্বিক সংকটগুলো নিরসনে তারা প্রত্যেকেই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।মিশেল বাচেলেত গুরুত্ব দিয়েছেন মাঠপর্যায়ে জাতিসংঘের উপস্থিতি বাড়ানোর ওপর। তার মতে, জাতিসংঘকে শুধুমাত্র আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ না থেকে সংকট প্রতিরোধে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।রাফায়েল গ্রসি বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান বিভাজন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে হলে একজন শক্তিশালী ও দূরদর্শী নেতৃত্বের বিকল্প নেই।রেবেকা গ্রিনস্প্যান জাতিসংঘের ‘নৈতিক অবস্থান’ ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘকে প্রয়োজনে ঝুঁকি নিতে শিখতে হবে।ম্যাকি সাল নিজেকে একজন সেতুবন্ধনকারীনেতা হিসেবে দাবি করেছেন। উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের মধ্যে বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠন করাই তার মূল লক্ষ্য।
বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জ >>
শীর্ষ পদের এই লড়াইয়ে প্রার্থীরা বিতর্কমুক্ত থাকতে পারছেন না। নারী অধিকার প্রশ্নে চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট বাচেলেতের কিছু পূর্বতন অবস্থান নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অন্যদিকে, সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভও হয়েছে, যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
যেভাবে নির্বাচিত হবেন মহাসচিব >>
মহাসচিব নির্বাচনের চূড়ান্ত চাবিকাঠি মূলত নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের হাতে। বিশেষ করে পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স—এর মতৈক্য এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা পরিষদ কোনো একজনকে সুপারিশ করার পর ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদ তা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করে।
বিশ্লেষকদের মত >>
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের লড়াই অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি হতে যাচ্ছে। বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জাতিসংঘ কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তাই এমন একজন নেতৃত্বকে খোঁজা হচ্ছে, যিনি বৈশ্বিক মেরুকরণের মাঝেও সাহসী ও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
উল্লেখ্য, আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করার কথা রয়েছে। তবে নির্ধারিত প্রার্থীদের বাইরে শেষ মুহূর্তে নতুন কেউ এই দৌড়ে যুক্ত হন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: এপিও


মন্তব্য