(ফটিকছড়ি প্রতিনিধি)>>> ফটিকছড়িতে পরকীয়ার বলী হয়ে মাত্র ২৫ বছর বয়সেই বিষপানে আত্মহত্যা করে জীবনের ইতি টানতে হলো পম্পী রানী সেনকে।পরকীয়া প্রেমিক টিটু পম্পী রানী সেনের প্রবাসী স্বামীর পাঠানো টাকা ও স্বর্ণসহ প্রায় ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উপজেলার কাঞ্চননগরের রের গৃহবধূ পম্পী রাণীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন পম্পী রানীর মা সন্ধ্যা রানী সেন।জানা যায়,গৃহবধূ পম্পী রানীর মা সন্ধ্যা রানী সেন গত ২৪ জুন বাদী হয়ে উক্ত পরকীয়া প্রেমিক টিটুসহ অপর একজনকে আসামি করে চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর আমলী আদালত-৫-এ মামলা দায়ের করেছেন।মামলা নং- ৪৪৭/২৪ ইং।বিজ্ঞ আদালত মামলাটি ওসি ফটিকছড়ি থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দ্রুত দিয়েছেন বলে সম্প্রতি জানান ফটিকছড়ি থানার ওসি মীর মো. নুরুল হুদা।মামলার বিবরণে জানা গেছে,কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের লক্ষণ কুমার সিকদারের ছেলে প্রবাসী সজীব কুমার সিকদারের স্ত্রী পম্পী রানী সেন (২৫) তার দুই সন্তানের পড়ালেখার সুবিধার জন্য ফটিকছড়ি পৌর সদরের গার্লস স্কুলের পেছনে একটি বাসায় গত ৭/৮ মাস ধরে ভাড়া থাকতেন।এর মধ্যে ফেসবুকের মাধ্যমে ভুজপুর ইউনিয়নের কাতপাড়া • গ্রামের রতন দে’র ছেলে টিটু দে – (২৭) এর সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।পম্পীর স্বামী বিদেশে থাকার সুবাদে উভয়ের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে প্রেমিক টিটু বিভিন্ন ব্যবসায়িক কাজের বাহানা করে পম্পীর নিকট থেকে দফায় দফায় তার স্বামীর বিদেশ থেকে পাঠানো প্রায় ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।এছাড়া পম্পীকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ঋণদান সংস্থা থেকে আরো দুই লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। – সর্বশেষ পম্পীর নিকট থাকা তার স্বামীর দেওয়া দুই ভরি স্বর্ণও নানা ছলচাতুরী করে হাতিয়ে নেয়।এদিকে চলতি জুলাই মাসে পম্পীর স্বামী বিদেশ থেকে দেশে আসবে বলে স্ত্রীকে জানালে স্ত্রী পম্পী উক্ত টাকা এবং স্বর্ণের জন্য তার প্রেমিক টিটুকে চাপ দিতে থাকে।এ নিয়ে উভয়ের বাদানুবাদের জের ধরে সর্বশেষ গত ১২ জুন দুপুরে টিটু পম্পীর বাসায় এলে উভয়ে একান্তে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় কাটায় বলে পম্পীর বড় ছেলে উক্ত মামলার সাক্ষী দীপ্ত (১১) জানিয়েছে।টিটু ঘর থেকে চলে যাবার পর একপর্যায়ে পম্পী ঘর থেকে বেরিয়ে আনে এসে তার দুই সন্তানের মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে পুনরায় ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে বিষপান করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।বিষপানের কিছুক্ষণ পর টিটু পুণরায় ঘরে এসে দরজা ভেঙে সুমন পম্পীকে ঘর থেকে বের করে হাটহাজারীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে বোন পরিচয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেও ১৩ জন ভোররাতে পম্পী থাক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।এদিকে পম্পীর পিতা ও স্বামী দুজনেই বিদেশে থাকার সুবাদে ধূর্ত টিটু পু- লিশী ঝামেলার ভয় দেখিয়ে পম্পীর মা ও শাশুড়িকে রাজি করিয়ে কোন পোস্টমর্টেম ছাড়াই পম্পীকে বাড়ি এনে শেষকৃত্য সেরে ফেলে।ঘটনার খবর পেয়ে পম্পীর স্বামী সজীব কুমার দ্রুত বিদেশ থেকে ফিরে আসে।অবশেষে গত ২৪ জুন পম্পীর মা বাদী হয়ে প্রেমিক টিটুকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন।এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি থানার তদন্তকারী দারোগা মো.মনিরুজ্জামানের নিকট জানতে চাইলে তিনি গত ২৮ জুন মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন বলে জানান এবং যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয়ার কথা বলেন।অপরদিকে নিহতের স্বামী সজীব কুমার স্ত্রী ও টাকা- পয়সা-সম্পদ হারিয়ে প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার প্রার্থনা করেছেন।


মন্তব্য