আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে মাছ ধরার দায়ে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ১টি ট্রলার ও ১ হাজার কেজি (২৮ ড্রাম) সামুদ্রিক মাছ জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বোট মালিককে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বাঁশখালী উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের (বিসিজি কন্টিনজেন্ট, পূর্ব জোন) একটি বিশেষ দল উপজেলার গন্ডামারা ও শেখেরখীল সংলগ্ন সমুদ্র মোহনায় এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
জব্দকৃত নৌযান: ৬ সিলিন্ডার বিশিষ্ট এফবি শহীদ’ নামক একটি আর্টিসানাল বোট।জব্দকৃত মাছ,১০০০ কেজি (২৮ ড্রাম)।জরিমানা,৭৫ হাজার টাকা (বোট মালিককে)। জব্দকৃত মাছগুলো উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
অভিযান সূত্র জানায়, গন্ডামারা খাটখালী এস. আলম জেটি সংলগ্ন এলাকায় মাছ শিকাররত অবস্থায় বোটটিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী নৌযানটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জনাবা সালমা বেগম বলেন,সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার যে নির্দিষ্ট মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তা বাস্তবায়নে আমরা অত্যন্ত কঠোর। বাঁশখালীর এই অভিযান তারই একটি অংশ। যারা নিয়ম ভেঙে মাছ ধরার চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা নিয়মিত টহল জোরদার করেছি যাতে সাগরে মাছের উৎপাদন টেকসই থাকে।
বাঁশখালী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. তৌসিব উদ্দিন জানান,সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের টেকসই প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর। এই সময়ে জেলেদের জীবনযাত্রা সচল রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে ভিজিএফ (VGF) চাল সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও জাতীয় স্বার্থে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে মৎস্য বিভাগ কোনো প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন করবে না।


মন্তব্য