চট্টগ্রাম জেলা সংবাদদাতা >>> বাংলাদেশ জামায়াত-শিবিরের সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দীন নদভীর মনগড়া ভিত্তিহীন অভিযোগের জবাব দিয়েছেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সাংসদ এম এ মোতালেব।সংসদ সদস্য মোতালেব বলেছেন, নদভী সাহেব একদিনও আওয়ামী লীগ না করে ক্ষমতার গাড়িতে চড়ে উড়ে এসে জুড়ে বসে এমপি হয়েছিল নদভী। ক্ষমতায় থাকতে জামায়াতকে সর্বোচ্চ পৃষ্ঠপোষকতা তিনিই বেশি দিয়েছেন তা তনমূল আওয়ামী লীগ সবাই জানে।
(২৪ মার্চ২০২৪)দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন সংসদ
বিগত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দীন নদভীকে বিপুল ব্যবধানে হারিয়ে বিজয়ী হন সাতকানিয়া উপজেলার সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ মোতালেব সিআইপি। সম্প্রতি জামায়াত-শিবিরের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম-১৫ আসনে নদভী তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিল ৷জামায়াতের পৃষ্ঠপোষক নদভীকে দলে নিয়ে ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রথম মনোনয়ন দিয়েছিল আওয়ামী লীগ,তিনি ‘মধ্যপ্রাচ্য লবির’ জন্য আগে থেকেই পরিচিত ও আলোচিত। ২০১৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে দুই বার তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
তিনি পরাজিত হওয়ার আড়াই মাস পর বিগত বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম পেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মোতালেবের বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ এনে সাবেক সংসদ সদস্য নদভী বলেন, ‘মোতালেব স্বতন্ত্র না কি জামায়াতের এমপি বোঝা যাইনা না।
পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে এর জবাবে মোতালেব বলেছেন, ‘নদভী সাহেবের সাংবাদিক সম্মেলনের বক্তব্য শুনে মনে হয়েছে,তিনি যত্রতত্র জামায়াতের ভূত দেখছেন।এটা দেখা অস্বাভাবিক কিছু নয়।কারণ, নদভীর অতীত বর্তমানের সঙ্গে জামায়াতের ছায়া প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। তার হাতেই অধিকাংশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। চট্টগ্রামের আর কোনো এমপি ছিল না যার হাতে এত বেশি সংখ্যক নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এখন তিনি তা অস্বীকার করতে চান।’
নদভী সাহেব জামায়াত জুজর ভীতি ছড়াচ্ছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘জামায়াত-বিএনপি এখন হরতাল অবরোধ করার মতো ক্ষমতা রাখে না। আমাদের সাংগঠনিক তৎপরতার কারণে তারা সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এলাকায় কোণঠাসা। কিন্তু অপ্রাসঙ্গিকভাবে সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নদভী জামায়াতের ভয় দেখাচ্ছেন। জামায়াতকে পৃষ্ঠপোষকতা তো তিনিই ক্ষমতায় থাকতে করেছিল।আর এখন মায়াকান্না করছেন।’
তাকে সাধারণ জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছেন,
‘আমার পরিবারের সবাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আস্থাশীল। আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যেকটি নির্দেশনা মেনে চলতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সুতরাং,পরিবার তুলে বিদ্রুপ করে মূলত তিনি আমার মানহানির চেষ্টা করেছেন। আমি তার এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
নদভী সাহেব দুই বার আওয়ামী লীগের এমপি হয়েছিলেন। স্ত্রী, ভাইপো, শ্যালক ও ভাগিনা সিন্ডিকেট করে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য বানিয়েছিলে সাতকানিয়া-লোহাগাড়াকে।বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আছে।অথচ এখন চোরের মায়ের বড় গলা হয়েছে।নিজেকে ধোয়া তুলসী পাতা ও নিষ্পাপ প্রমাণ করতে চান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি কাল্পনিক, অবাস্তব বক্তব্য উপস্থাপন করে নিজেই হাসির পাত্র হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নদভী সাহেবের সংবাদ সম্মেলনের প্রতিক্রিয়া পড়লে বুঝতে পারবেন তিনি কতটা অগ্রহণযোগ্য। একদিনও আওয়ামী লীগ না করে ক্ষমতার গাড়িতে চড়ে উড়ে এসে জুড়ে বসে তিনি যে রাজনীতি করেছেন,তা ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে।নিজে খেয়ে আওয়ামী লীগের নামে দুর্নাম রেখে গেছেন।
সাবেক সংসদ নদভীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, অসংলগ্ন প্রলাপের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের রক্ষা করতে চেয়েছেন। নদভীর কাছ থেকে পাওনা টাকা ফেরত চেয়ে এবং দুর্নীতির বিচার চেয়ে বিশাল মানববন্ধন হয়েছে। তারা সবাই ছিল উনার পাড়া-প্রতিবেশি। যারা উনার হাতে নির্যাতিত এবং তার ভাইপো সেলিম চেয়ারম্যানের হাতে নির্যাতিত হয়েছিল।’
এম এ মোতালেব, ‘তিনি ছয় খুনের মিথ্যা গল্প ফেঁদেছেন। সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া দুই থানার ওসি এ বক্তব্য প্রত্যাখান করেছেন। নদভী সাহেব এওচিয়া ইউনিয়নের শনখোলা গ্রামে একজনের মালিকাধীন একটি ব্রিকফিল্ড অন্যজনের নামে লিখে দিয়ে রাতারাতি ইট লুট করেছিলেন। টিআর ও কাবিখা প্রকল্প এমনভাবে বণ্টন করেছিলেন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন যাতে তার আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে। তার ক্ষমতার দাপটের সামনে পিআইও ও ইউএনও ছিল অসহায়। সরকারি প্রকল্প নয়-ছয় করে, ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন নিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।’


মন্তব্য