রিপোর্ট গিয়াস উদ্দিন ভুলু, টেকনাফ >>>
কক্সবাজারের-টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির সংঘর্ষ অব্যাহত ভাবে চলছে।
তথ্য সুত্রে জানা যায়,গত দুই মাসের পরিস্থিতিতে রাখাইন রাজ্যের বেশ কয়েকটি এলাকা অবরুদ্ধ হয়ে গেছে। সেখানকার সাধারণ মানুষের জীবন যাপনও অনেকটা সংকাটাপন্ন হয়ে পড়েছে। সংঘর্ষের মাত্রা যত দীর্ঘায়ু হচ্ছে,ততই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ছে। রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দাদের আগামী উপায় কি হবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন উক্ত রাজ্যের বাসিন্দারা।এদিকে মিয়ানমারে এখনো চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করে আসছে বলে দাবি করছে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেকনাফ উপজেলা হ্নীলা ইউপি লেদা রোহিঙ্গা শিবিরে বসবাসকারী এক রোহিঙ্গা যুবক জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সংকটের সময়,
৭ লাখের অধিক রোহিঙ্গা শরনার্থী বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। উক্ত সময়ে মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে আরো চার লাখের বেশী রোহিঙ্গা নিজ জন্মভুমিতে থেকে যায়। তারা সেখানে এতোদিন অনেকটা নিরাপদে ছিল। তবে গত বছরের ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর থেকে আবারও বেকায়দায় পড়ে যায় সেখানে থাকা রোহিঙ্গারা।
এদিকে এপারে আশ্রিত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের ওপারে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে জানতে পেরেছে গত কয়েক দিনে রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারনে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নাফনদী সংলগ্ন ওপারের গহীন পাহাড়ী এলাকায় অবস্থান করছে।
বিশেষ করে সীমান্তের ওপারে মাংগালা,রোহিঙ্গা ঢং,প্রাংপুর, বুসিডং,সুজাপাড়া,পেরাংপ্রুসহ বেশ কয়েকটি এলাকার অবস্থা এই যে, পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে তারা যে কোন মুহুর্তে নাফনদ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত উপকুল উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ করতে পারে। তবে সেখানকার রোহিঙ্গাদের অনেকে ২০১৭ সালের মতো পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিজ জন্মভুমি রাখাইন রাজ্য না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানিয়েছে সেখানে থাকা অনেক রোহিঙ্গা।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিনে রাখাইনের সংঘাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারী অস্ত্রের গোলা এসে পড়ার পর গত ২৮ জানুয়ারি (রবিবার) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক এ কে এম নাজমুল হাসান উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত এলাকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপুর্ণ পয়েন্ট পরিদর্শন করেছেন।
রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তে কর্মরত বিজিবি সৈনিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়ে গেছেন। এরপর থেকে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবি সদস্যদের কড়া পাহারা টহল দিতে দেখা গেছে।
টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে: কর্ণেল মোহাম্মদ মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ রাখাইন রাজ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বিজিবি মহাপরিচালক সীমান্তের পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন। ডিজি সাহেবের নির্দেশনা মোতাবেক সীমান্তের যে কোন পরিস্থিতি সর্বোচ্চ সতর্কতার সহিত প্রতিরোধ করবে বিজিবি। পাশাপাশি সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশসহ যেকোন ধরনের অপরাধ দমনে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে অভিমত প্রকাশ করে টেকনাফ পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলম বাহাদুর বলেন, ২০১৭ সালে আসা রোহিঙ্গারা উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছে। এতো বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রভাবে আমরা স্থানীয়রা প্রত্যক্ষভাবে দিনের পর দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আমাদের খাদ্য, নিরাপত্তা থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে আশ্রিত রোহিঙ্গারা। এ পরিস্থিতিতে নতুন করে আর কোন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সেটাই আমাদের দাবী।


মন্তব্য