রিপোর্ট আব্দুল্লাহ আল মারুফ চট্টগ্রাম
চলতি বছর মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া আসন্ন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের বৃহত্তম পাইকার বাজার খাতুন গঞ্জের ব্যবসায়ীরা। রমজান শুরু হতে আরো প্রায় দুইমাস সময় বাকি আছে, খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গুদামে চাহিদার আলোকে পর্যাপ্ত পরিমান ছোলা, মটর, মশুর ডাল মজুদ রয়েছে, যে পরিমান পণ্য মজুদ রয়েছে তাতে রমজানে পণ্যের কোন ঘাটতি হবেনা। যে কোন পণ্যের এলসি ওপেন করার পর থেকে সেই পন্য বন্দর থেকে আমদানী কারকের গুদামে আসতে প্রায় দু’মাসের মত সময় লেগে যায় বিধায় আমদানী কারকরা আসন্ন পবিত্র রমজানে যাতে নিত্য ভোগ্য পণ্যের ঘাটতি নাহয়, তাই আগেই পণ্যের বুকিং দিয়ে রেখেছেন। তাই পণ্যের যেহেতু ঘাটতি বা সংকট হবেনা, তাই দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কোন সম্ভাবনা না থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পূর্বের দামের তুলনায় কিছুটা হেরফের হবে, যা একেবারেই যৌক্তিক বলে জানিয়েছেন খাতুনগঞ্জের আমদানীকারকরা।গত বছরের অনেক পণ্য গুদামে অবিক্রিত থেকে গেছে। সব মিলিয়ে রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় এসব পণ্যের দাম সহনশীল পর্যায়ে থাকবে।এদিকে রমজানের নিত্যপণ্যের তুলনামূলক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছর এমন সময় অস্ট্রেলিয়ার ছোলার দাম ছিল কেজিপ্রতি ৯০ টাকা, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকায়। এছাড়া গত বছর ভারতীয় ছোলার দাম ৯২ টাকা এবং বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা। গত বছর প্রতি বস্তা (৩৭.৩২ কেজি) চিনি বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ১০০ টাকা, এ বছর বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৯০০ টাকায়, মসুর ডাল গত বছর বিক্রি হয়েছে ৮২ টাকা, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা, খেসারি ডাল গত বছর ছিল ৯০ টাকা, বর্তমানে ৯৮ টাকা, মটর ডাল গত বছর বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা, বর্তমানে ৬৫ টাকা, সাদা মটর গত বছর বিক্রি হয়েছে ৫২ টাকা এবং বর্তমানে ৬৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে মুগ ডাল গত বছর বছর রমজানের আগে বিক্রি হয়েছে ৭২ টাকা, কিন্তু বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৩২ টাকা এবং সয়াবিন তেল প্রতি মণ (৩৭.৩২ কেজি) গত বছর বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার ৮০০ টাকা, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৮০০ টাকা। এছাড়া পাম তেল প্রতি মণ গত বছর বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার ৩০০ টাকা, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৭৫০ টাকা, পেঁয়াজ গত বছর এমন সময়ে বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা, রসূন গত বছর ছিল ১২০ টাকা, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২০৫ টাকা, চীনা আদা গত বছর ছিল ১৬০ টাকা, বর্তমানে ১৭০ টাকা এবং মিয়ানমারের আদা গতবছর বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।
এদিকে খাতুনগঞ্জের আমদানীকারক ও পাইকারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রমজানের নিত্য ভোগ্য পণ্য পুর্বের বছরের মাল গুদামে মজুদ থাকা অবস্থায় আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে আমদানীকারকরা যথাসময়ে ভোগ্যপণ্যের আমদানি বুকিং করায় পাইকারদের দোকান ও গুদামে প্রচুর পরিমাণ পণ্য মজুদ রয়েছে। স্বভাবতই রমজানে চিনির ব্যবহার কয়েকগুন বৃদ্ধি পায়, সে হিসাব করে বর্তমানে বাজারে চিনির কোনো ঘাটতি নেই। সারা দেশে প্রায় ৮০ হাজার টন ছোলার চাহিদা থাকে। অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রচুর পরিমাণে ছোলা এসেছে।
রমজানে সাদা মটর, মসুর ডাল, ভোজ্যতেল, চিড়া এবং খেজুরের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। খেঁজুর আমদানি হয় ইরান, তিউনিসিয়া, দুবাই ও সৌদি আরব থেকে।চাক্তাই আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দরা জানিয়েছেন, রমজান উপলক্ষে ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীরা আমদানিকৃত পণ্য গুদামজাত শুরু করছেন, কিছু পণ্য বন্দরে ও বন্দরে পৌঁছার অপেক্ষায় আছে। সকল পণ্য যথাসময়ে পাইকারদের গুদামে পৌঁছে যাবে এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়ে যাবে।ফলে আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে দেশের কোথাও নিত্য ভোগ্য পণ্যের সংকট যেমন সৃষ্ঠি হবেনা, দামও তেমন বাড়বেনা। সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে রমজানের ভোগ্য পণ্য ব্যবহার করতে পারবে বলেও জানিয়েছেন খাতুনগঞ্জের পাইকাররা।


মন্তব্য