আব্দুল কাদের চৌধুরী, নিজস্ব প্রতিবেদক >>> সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ফটিকছড়ি সংসদীয় আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ফটিকছড়ি সংসদীয় আসনে মোট ১৪২টি ভোট কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে বিপুল ভোটের ব্যবধান সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। তিনি ১০১০৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তরমুজ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এইচ এম আবু তৈয়ব পেয়েছেন ৩৪৭৮৪ ভোট।সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোট গ্রহণ চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণের সময় ভোট কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি একেবারে কম ছিলো। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটার উপস্থিতি বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও শেষপর্যন্ত তা কিন্তু হয়নি। মূলত বিচ্ছিন্ন ভোটার ছাড়া ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়নি।কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো প্রার্থী নির্বাচন বিষয়ে অভিযোগ জানাননি। ভোটের পরিবেশে নিয়ে কোনো বিরুপ মন্তব্য না থাকলে ভোটার অনুপস্থিতির বিষয়ে সকলে অসন্তোষ প্রকাশ করে। বিষয়টি প্রার্থীদের সমর্থক ও কর্মীদের মাঝে বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।কয়েকটি ভোট কেন্দ্র ঘুরে নির্বাচনের পরিবেশ বিষয় জানাতে গিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান এবং নির্বাচন পরিচালনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঝে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণে আন্তরিক ভূমিকা বেশ পরিলক্ষিত হয়েছে। অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশ্নবিদ্ধতা রোধে সকলে ছিলো সতর্ক অবস্থান। তবে ভোটার অনুপস্থিতির বিষয়টি তাঁদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা নই বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান। নিয়ম রক্ষা করে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন করাটা তাঁদের মূল দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন।ভোটাধিকার প্রয়োগ করা অনেক ভোটারের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভোটারের উপস্থিতি না থাকায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকার মতো পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি। একেবারে ঝামেলামুক্ত অবস্থায় ভোট প্রয়োগ করা সম্ভব হয়েছে। কোনো ধরনের সমস্যায় না পড়ে ভোট দিতে পেরে তারা বেশ খুশি।অনেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ না করলেও কেন্দ্রে অবস্থান করা এসব ভোটারের অনেকের সাথে কথা বলেন, ভোটের কিরকম পরিবেশ তা দেখতে এসেছি। ভোট কেন্দ্র একেবারে ফাঁকা। মাঝেমধ্যে এক একজন আসছে আর মুহুর্তে ভোট দিয়ে চলে যাচ্ছে। আমরা নীরবে দাড়িয়ে তা দেখছি। আমরা ভোটদান থেকে বিরত আছি।বিজয়ী ও বিজিত কোনো প্রার্থীর আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া না গেলেও বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের বিজয়োল্লাস করতে দেখা যায়। এই বিজয়কে নানাভাবে আখ্যায়িত করে ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বিভিন্ন জায়গায় নৌকা সমর্থকদের আনন্দ মিছিল করতে দেখা গেছে।বিজিত অনেক প্রার্থীর কর্মীরা ভোট গ্রহণের বিষয়ে নানা অভিযোগ তুললেও বড় ধরনের বিরুপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে কাউকে দেখা যায়নি এখনো পর্যন্ত।এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ার প্রতীকের প্রার্থী মীর মুহাম্মদ ফেরদৌস ৫২৫ ভোট, মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ হামিদ উল্লাহ ১৫২৫ ভোট, লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী শফিউল আজম চৌধুরী ২৫৫ ভোট, ঈগল প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ শাহাজান ২৫৫ ভোট, ফুলকপি প্রতীকের প্রার্থী রিয়াজ উদ্দীন ৩১৩ ভোট,বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান ও একতারা প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ ৩১৩৮ ভোট এবং বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ও সাংসদ আলহাজ্ব নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ফুলের মালা প্রতীকে ২৩০ ভোট পেয়েছেন।


মন্তব্য