২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
সাতকানিয়ায় কাঞ্চনা ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মী শিক্ষা বৈঠক সম্পন্ন সুনামগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে জেলা প্রশাসকের মত বিনিময়। এসএসপি নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী গোলাম ফারুক মজনু মোঃ আল পানছড়িতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ শুরু পুষ্টি বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার জাতীয় ছাত্রশক্তির দক্ষিণ জেলা কমিটিতে সাঈদ হোসেন মানিক পটিয়ায় মায়ের বকুনী খেয়ে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা। ইতালি পাঠানোর নামে লিবিয়ায় জিম্মি ও ২২ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ সুনামগঞ্জে মানব পাচার ট্রাইব্যুনালে মামলা রাজনীতিতে কেন এলেন? সমালোচনার জবাবে যা বললেন অভিনেত্রী চমক। খাগড়াছড়ি পানছড়িতে অসুস্থ নারীর চিকিৎসা সেবায় এগিয়ে এলো পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি) রাজনীতিতে কেন এলেন? সমালোচনার জবাবে যা বললেন অভিনেত্রী চমক
আন্তর্জাতিক:
লাহোর থেকে যাতি উমরা স্মৃতির অলিন্দে পাঞ্জাবের আতিথ্য তুরস্কের কাছে ১০০ কোটি ডলার ও সুন্দরী স্ত্রী চাইলেন উগান্ডার সেনাপ্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কোনো সীমাবদ্ধতা মানবে না ইরান।। ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় আহত ইরানি নেতা কামাল খারাজির মৃত্যু নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা ছিল বলে অভিযোগ ইরানের ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ না খুললে নামবে নরক ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ হরমুজ: ভূ-রাজনীতির অগ্নিপথ ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উদ্বেগ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: মার্কিন কোষাগারে বিপুল খরচের বোঝা ৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ: নাসার আর্টেমিস-২ অভিযানের সফল শুরু
     
             

আজকের দিনে শত্রু মুক্ত হয়েছিল চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ও জীবননগর

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

মোঃ সজিব উদ্দিন,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি >>>

আজ ৪ ডিসেম্বর। ৭১ এর আজকের দিনে শত্রু মুক্ত হয়েছিল চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ও জীবননগর। পাক-হানাদার বাহিনীকে হটিয়ে এ দুটি এলাকা মুক্ত করেন বাংলার যোদ্ধারা। দেশ স্বাধীনের পর থেকেই ডিসেম্বরের আজকের দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে। পাক-হানাদার বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে তিন দিক থেকে মিত্র বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমন করে পাকবাহিনীকে হটিয়ে দর্শনা মুক্ত করে। মিত্র বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা জানতে পারে দর্শনা শান্তি পাড়া ও পরাণপুর গ্রামের মাঁঝামাঝি মাঠে পাক হানাদার বাহিনী ঘাটি করে আছে। এ খবর পেয়ে যুদ্ধকালীন কমান্ডার লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে আব্দুল হামিদ তোতা, নুর হাকিম, গোলাম হোসেনসহ ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা এবং ৩০০ জন মিত্র বাহিনী ভারতের গেদে বর্ডারের ক্যাম্পে বসে রাতের খাবার খেয়ে পাক-বাহিনীর অবস্থানের দিকে রওনা হয়। বারাদী সীমান্ত পেরিয়ে পারকৃষ্ণপুর-মদনা হয়ে গোবিন্দপুর গ্রামের নিকটবর্তী স্থান দিয়ে রাবারের নৌকা চেপে ৩০ জন করে মাথাভাঙ্গা নদী পার হয়ে ধাঁপাড়ী ও তালবাগান মাাঠের উত্তর-পশ্চিম কোনে অবস্থান নিই বলে লিয়াকত আলী জানান। তিনি আরো বলেন, আমরা ৩৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী ধাঁপাড়ী ও তালবাগান মাঠের উত্তর-পশ্চিম কোনে পৌঁছে আমরা অবস্থান নিয়ে ব্যাংকার খুড়ে ফেলি। এরপর রেকি করে পাকবাহিনীর অবস্থান বুঝে রাত ৩টার দিকে সকল প্রস্তুতি সেরে পাক-হানাদার বাহিনীর গুলি, সেল, মটার হামলা শুরু করি। দিন-রাত এক নাগাড়ে গুলি বর্ষন শুরু করলে পাক-হানাদার বাহিনীও পাল্টা সেল মারতে শুরু করে। দীর্ঘ প্রায় ২ ঘন্টা ৪৫ মিনিট ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ চলে।

মুহুর-মুহুর গুলি, সেল মটার সেল নিক্ষেপ করার ফলে এক পর্যায় পাকবাহিনী নাস্তানাবুদ হয়ে পড়ে। আমাদের লোকেশন বুঝতে না পেরে পাক-বাহিনী রেলগেট ও ডাঙ্গাপাড়া মাঠের দিকে সেল, মটার ও গুলি বর্ষন করতে থাকে। ফলে আমাদের তেমন কোন ক্ষতি না হলেও মিত্রবাহিনীর দুইজন নিহত ও একজন আহত হয় । অপর দিকে পাক-হানাদার বাহিনী ব্যাপক হতাহত হয়। একদিকে আমাদের সাথে লড়াই চলছে। আপরদিকে উথলী দিক থেকে আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে পাক-বাহিনীর উপর হামলা চালায়। এ সময় তিনদিক থেকে মুক্তি বাহিনীর আক্রমনে পাক-হানাদার বাহিনী নাস্তানাবুদ হয়। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই পাক-হানাদার বাহিনী রেলপথ ও সড়ক পথ ধরে চুয়াডাঙ্গা শহরের দিকে পালাতে থাকে। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দর্শনা কেরু চিনিকলের জেনারেল অফিসের সামনে মিত্র-বাহিনীর প্রধান মিঃ বুফে ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল।
জীবননগরের মুতাচ্ছিন বিল্লাহ জানান: ১৯৭১ সালের এই দিনে ভারত সীমান্ত ঘেঁষা জীবননগর উপজেলা পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত হয়। এ দিন মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর তুমুল প্রতিরোধের মুখে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। যুদ্ধের পর জীবননগর ছেড়ে ঝিনাইদাহ অভিমুখে পালিয়ে যায় হানাদার বাহিনী। বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান মাষ্টার জানান, ১৯৭১ সালের ২৬ নভেম্বর জীবননগরে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর পতন ঘটে। এরপর চূড়ান্ত বিজয় আসে ৪ ডিসেম্বর। এদিন ভোরে ভারতীয় মিত্র বাহিনীর কমান্ডার মেজর দত্ত ও ৮ নম্বর সেক্টরের বানপুর সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন পরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) প্রয়াত মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনী যৌথভাবে উপজেলার ধোপাখালী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তাঁরা জীবননগর, সুন্তোষপুর, হাসাদাহ ও পাশের মহেশপুর উপজেলার দত্তনগরে অবস্থান করা পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর অতর্কিত ঝাঁপিয়ে পড়েন। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সম্মুখ যুদ্ধ। তিনি আরও জানান, এ যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ২৯ বেলুচ রেজিমেন্টের সৈন্যরা যৌথ বাহিনীর কাছে পরাজিত হয়। তারা ঝিনাইদাহ জেলার দিকে পালিয়ে যায়। এ সময় থানায় ফেলে যাওয়া ক্যাপ্টেন মুনসুর আলীর ব্যবহৃত জিপ গাড়িতে মুক্তিযোদ্ধারা আগুন ধরিয়ে দেন। থানার মালখানা থেকে উদ্ধার করেন পাশবিক নির্যাতনের পর সদ্য হত্যা করা ৭-৮ জন অজ্ঞাত পরিচয় তরুণী মৃতদেহ। এ দিন স্বতঃস্ফূর্তভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবননগরের মাটিতে প্রথম উত্তোলন করেন স্বাধীন বাংলার লাল সবুজের পতাকা।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page