নিউজ ডেস্ক >>> ইন্ডিয়া থেকে ফিরে ঢাকা প্রান্থপথের বিআরবি হাসপাতালের লিভার বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোহাম্মদ আলী সাহেবের তত্বাবধানে চিকিৎসা শুরুর পর থেকে অসংখ্য আত্মীয় পরিজন বন্ধু বান্ধবসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আপামর গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী মহল ভাই আজাদ তালুকদার এর অসুস্থতার খোঁজ খবর নিয়ে অনেক বাধিত করেছেন আমাদের।অনেকে হৃদ্যতা ও ভালোবাসার টানে দলে দলে তার শয্যা পাশে ছুটে এসে নানা ভাবে সহযোগিতা ও সহমর্মিতা প্রদান পূর্বক অনেকে ধৈর্য ও সাহস যুগিয়েছিলেন,তৎজন্য সবাইকে আমার পরিবারের পক্ষ থেকে অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।মানুষের অবিরাম ভালোবাসা ও দোয়ার বরকতে অসংখ্য বরণ্যে বুদ্ধিজীবি লেখক সাহিত্যিক সাংবাদিক মহল ও সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা ছিলো আজাদ তালুকদার ক্যান্সার জয় করে পূনরায় কলমের জীবনে ফিরে মানুষের কল্যাণে তার অসমাপ্ত কর্মকান্ড নিয়ে আরও কিছু দিন আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবে।হয়তো আমাদের চেয়েও তার প্রতি অধিক ভালোবাসা ছিলো সর্ব শক্তিমানের,তাই
গত ২ রা আগষ্ট লাখো লাখো মানুষের প্রশংসা প্রার্থনা সত্ত্বেও কিছুতে আটকানো গেলো না তাকে,কতই যে বাঁচার আকুতি ছিলো তার,বলছিলো অভিমানে কাটিয়েছি বেশির ভাগ জীবন,এত অল্পদিনে অজানায় পাড়ি দিতে হবে তা কখনো ঘুনাক্ষরেও ভাবিনি,শহর জয়ের পর এবার গ্রামের মানুষের পরিসেবায় ভালোবাসার স্বাদ নিতে এলাকা মুখী হতেই আজাদ তালুকদার এর অকাল মৃত্যু বড় কষ্টে মেনে নিতে হয়েছে এলাকার মানুষকে,কেহ ভাবতে পারেনি এত অল্প সময়ে আজাদ তালুকদার আমাদের মাঝ থেকে অনন্ত কালে চলে যাবে।বিআরবি হসপিটালের বেডে শুইয়ে শুইয়ে টলমল অশ্রুর ইশারায় বাঁচার ইচ্ছা আকুতির দৃশ্য টুকু আমাকে প্রতিনিয়ত কষ্ট দেয়,পলকে পলকে চোখে ভাসে ওসব মর্মবেদনার স্মৃতি গুলো, ইন্ডিয়ার চিকিৎসার পর ঢাকা প্রান্থপথ বিআরবি হসপিটালে মাত্র তের দিনের মাথায় অতি ভোরে শুনতে হলো জননন্দিত একুশে পত্রিকা ও দৈনিক সকাল সন্ধ্যা পত্রিকার সম্পাদক আজাদ তালুকদার আমাদের মাঝে আর নেই,সেদিন সুবহে সাদিক ভোর ৩.৪৫ মিনিটের সময় তার মৃত্যুর খবর মুহুর্তের মাঝে অগনিত আত্মিয় পরিজনের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে,দেশের জাতীয় দৈনিক সহ টিভি চ্যানেল গুলোতে সংবাদ শিরোনাম হয়ে উঠে আজাদ তালুকদার দীর্ঘদিন মরনব্যাধি ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধে পরাজয়ের খবর,তিনি আর আমাদের মাঝে বেঁচে নেই সামিল হলো পরপারের যাত্রায়।
এই অপ্রত্যাশিত খবরে পুরো শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে উঠলো,মনে হচ্ছিলো এক্ষুনি ন্যুয়ে পড়ছি,জীবনে এরকম কঠিন মুহূর্তের মুখোমুখি এর আগে আর কখনো হয়েছি কিনা আমার জানা নেই,কোন মতে মানতে পেরেছিলাম না ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ।সবসময় ভাবতাম সুস্থ হয়ে কোন একদিন আজাদকে নিয়ে বাড়ি ফিরব,কিন্তু বিধিবাম তা না হয়ে ঢাকা থেকে এম্বুলেন্সের সাথে থাকা আপন জনেরা বলছে কফিন নিয়ে আমরা এখন চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে কুমিল্লা অতিক্রম করছি।চট্টগ্রামের জামিয়াতুল ফালাহ্ মসজিদের দ্বিতীয় তলার সুপরিসর প্রাঙ্গনে হাজারো মানুষের ভীড়,উপরে তেরপল দিয়ে ঢাকা,সবাই যেন জানতেন সেদিনের অঝোর ধারায় বৃষ্টির কান্নায় জানাজার যাতে বিঘ্ন না ঘটে তাই আগেভাগে বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার এই আয়োজন,প্রয়াত আজাদ তালুকদার এর ভালোবাসার প্রিয় মানুষ দেশের শীর্ষ স্থানীয় শিল্পপতি পিএইচপি গ্রুপের কর্ণধার শ্রদ্ধেয় সুফি মিজানুর রহমানের নিকট একুশে পত্রিকা পরিবার চির কৃতজ্ঞ।
তার ভক্ত অনুসারী বন্ধু মহল ও অগনিত শুভানুধ্যায়ী ও ভালোবাসার মানুষ নির্ভীক দাঁড়িয়ে আছে কপিনের অপেক্ষায়,দেখেছি অনেকের ছলছল চোখের জল সকলের মন খারাপের মুহূর্ত সেদিন,সাংবাদিক আজাদ তালুকদার এর কর্মগুণ কলমের সুঘ্রাণ ও বিনয়ী আচরণে এত মানুষের মন জয় করতে পেরেছে সেদিন জামিয়াতুল ফালাহ্ ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে জানাজায় মানুষের ঢল দেখে হারে হারে বুঝতে পেরেছিলাম,ইহার পর তার নিজ গ্রামে রাংগুনিয়ার পদুয়া মাদ্রাসা ময়দানে আসরের নামাজান্তে তৃতীয় জানাজা আরম্ভের প্রাক্কালে উপস্থিত অনেকের মাঝে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বারবার পদকপ্রাপ্ত জাতীয় মৎস্য বিপ্লবী আলহাজ্ব এরশাদ মাহমুদ সাহেব চোখের অরোধ্য অশ্রুতে সরল কথায় বলেছিলেন আজাদ তালুকদারের এই অকাল প্রয়াণের খবরে আমরা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত ও শোকাহত।অতি অবেলায় একটি নক্ষত্রের বিদায়,মন প্রবোধের ভাষা নেই আমাদের,কি হয়ে গেল এত তাড়াতাড়ি।একটি জীবনের জন্য এতই অল্প সময় মাত্র তা ভাবতে পারিনি।তোমার আরও কিছুদিন বেঁচে থাকা নেহায়েত প্রয়োজন ছিল দেশের বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে,মনকে মানাবার এত চেষ্টা তবু মানাতে পারিনা।
আর দুইদিন পর ভাইয়ের মৃত্যুর চল্লিশ দিন পার করতে চলেছি,তার সব স্মৃতি চোখে ভীড় করে খুব বেশি মনে পড়ে,অহরহ মিস করছি তাকে,চিরদিন বহন করতে হবে এ অফুরন্ত শোকের বিয়োগ বেদনা।
কবরের পাড়ে গেলে নিরব নিভৃতে জিজ্ঞাসা আমার,পরিবারের কনিষ্ঠ জন হয়েও কেন সবার আগে মসজিদ গোরস্থানে,সুখে থেকো তুমি অনন্ত নীড়ে,বেহেশতে সন্মানের বাসিন্দা হও আমিন।
কবি ও লেখক শাহাদাত হোসেন তালুকদার চট্টগ্রাম।


মন্তব্য