শফিক আর রহমান বিশেষ প্রতিনিধি কক্সবাজার >>> জুলাই বিপ্লবের পর ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের বড় নেতারা পালিয়ে যান এবং অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন। কেউ কেউ নানা কায়দায় ফেরার চেষ্টা করছেন। তাদের একজন কক্সবাজারের রোজিনা আকতার। মামলা, হামলা ও হয়রানি থেকে এই আওয়ামী লীগ নেত্রীকে রক্ষার দায়িত্ব নেন বিএনপির স্থানীয় এক নেতা। এজন্য তিনি ২২ লাখ টাকা আদায় করেন। ওয়াদা ভঙ্গ করবেন না বলে মাথায় পবিত্র কোরআন নিয়ে শপথও করেন। কিন্তু তিনি আবার টাকা দাবি করেন এবং না পেয়ে হত্যার হুমকি দেন। এতে উপায়ান্তর না পেয়ে শপথের ভিডিও ছড়িয়ে দেন রোজিনা। এতেই পড়ে যায় হইচই।অভিযুক্ত ওই নেতা হলেন কক্সবাজার পৌর সভা ১ নম্বর ওয়ার্ড পূর্ব শাখার সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন খান কোম্পানি। তিনি ওই ওয়ার্ডের মধ্যম কুতুবদিয়া পাড়ার বাসিন্দা। আর রোজিনা হলেন কক্সবাজার শহর আওয়ামী লীগের ১ নম্বর ওয়ার্ড শাখার মহিলাবিষয়ক সম্পাদক। তিনিও একই এলাকার বাসিন্দা।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতা নূর উদ্দিন দুই লাখ নেওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেত্রী রোজিনার কাছে আরো টাকা দাবি করার পর তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এরপর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। রোজিনা বিএনপির ওই নেতাকে টাকা দেওয়ার এবং টাকা নেওয়ার পর পবিত্র কোরআন মাথায় নিয়ে শপথ করেন নূর র উদ্দিন খান আরো টাকা চাওয়ায় ভিডিও প্রকাশ আ.লীগ নেত্রীর দাবি অনুযায়ী বাড়তি টাকা না পেয়ে হত্যার হুমকি ও মাদকাসক্ত ছেলের সঙ্গে স্কুলছাত্রীর বিয়ের প্রস্তাব ও দেন রোজিনার দাবী শান্তিতে থাকার জন্য ১২ মাসে ১২ পাঞ্জাবি ও দিয়েছি রোজিনা দাবি করেন, আরো টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে ও তার সন্তানদের হত্যার হুমকি দেন বিএনপি নেতা নুর উদ্দিন। এমনকি তিনি এও বলেছেন যে, ‘তোর (রোজিনা) ঘরে আগুন ধরাই দেব। তোর বাচ্চাদের মেরে ফেলব। তোকেও মেরে ফেলতে হবে আমাদের এরকম মার্ডার মামলা আছে।রোজিনা দাবি করেন, শুধু দুই লাখ টাকা নয়, আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ব্যবসার জন্য ধার নেওয়া ২০ লাখ টাকাও ফেরত দেননি বিএনপি নেতা নুর উদ্দিন। বরং, গত বছরেরও আগস্টের পর এলাকায় নিরাপদে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই টাকার বিপরীতে (গ্যারান্টি) দেওয়া ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও চেকও ফিরিয়ে নিয়েছেন তিনি। সঙ্গে আরো দুই লাখ টাকা নগদ নেন। এই ২২ লাখ টাকা নেওয়ার কিছুদিন পর আরো টাকা দাবি করেন।স্থানীয়রা জানান, নূর উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাদারণ মানুষের নানা অভিযোগ আছে। তার বিরুদ্ধে দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। দলের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির নামে টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। তার বিরুদ্ধে মানব পাচার মামলা, পুলিশের হাত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনার মামলাও আছে। তিনি স্থানীয় আরেক বিএনপি নেতা, ওই ওয়ার্ডের সাবেক পৌর কাউন্সিলর এসআই আকতার কামাল সিন্ডিকেটেরও সদস্য।প্রাণনাশের ভয়ে নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়কয়েকজন জানান, সাবেক পৌর কাউন্সিলর এসআই আকতার কামাল ও তার স্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া কোনো কাজই করেন না বিএনপি নেতা নূর উদ্দিন।আওয়ামী লীগ নেত্রী রোজিনা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরপরই আমাকে রক্ষা’র জন্য মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন বিএনপি নেতা নূর উদ্দিন। তিনি দুই লাখ টাকাও নিয়েছেন। ওই সমাঃ নূর উদ্দিন খান কোরআন মাদায় নিয়ে আমার কোনো ক্ষতি হতে দেবেন না বলে শপথও কারেন।”তিনি আরো বলেন, নূর উদ্দিন তার কথা রাখেননি, উল্টো আমি ও আমার পরিবারকে হয়রানি করছেন, হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। তিনি আমার স্কুলপড়ুয়া ১৫ বছর বয়সি মেয়েকে তার ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছেন। আমি তখন বলেছিলাম- আমার মেয়ে ছোট আর আপনার ছেলে তো গাঁজা খায়। আপনার আরেক ছেলে খুনি। কীভাবে বিয়ে দেওয়া সম্ভব! এছাড়া নূর উদ্দিনের সব পাঞ্জাবিই আমার দেওয়া। শুধু এলাকায় শান্তিতে থাকার জন্য প্রতি মাসে একটি করে পাঞ্জাবি কিনে দিয়েছি। ঈদের সময় ডাবল দিয়েছি। ১২ মাসে ১২টি, দুই ঈদে ডাবল।’বিভিন্ন সূত্র জানায়, রোজিনা আওয়ামী লীগ করলেও তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কিংবা অপরাধমূলক কোনো মামলা নেই। তার বিরদ্ধে ইয়াবা কারবারের অভিযোগ থাকলেও এ ধরনের ঘটনায় তিনি কখনো আটক হননি। যদিও রোজিনা দাবি করেছেন, বিএনপি নেতা নূর উদ্দিন, কাউন্সিলর আকতার কামালরা মিলে তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা করিয়েছিলেন, সেই নামদার অভিযোগ থেকেও তিনি খালাস পেয়েছেন।আওয়ামী লীগ নেত্রীকে রক্ষার জন্য টাকা নেওয়া ও তাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা নূর উদ্দিন। তিনি সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, এগুলো সত্য নয়। এসব তার বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র।কক্সবাজার পৌর বিএনপির আহবায়ক রফিকুল হুদা চৌধুরী বলেন, নির্দেশ আছে দলে চাঁদাবাজদের কোনো জায়গা নেই। অনিয়ম করলে নূর উদ্দিনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। তার বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে কেউ প্রমাণ নিয়ে তাদের কাছে গেলে তা খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য