- আব্দুল্লাহ আল মারুফ।
দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বিনা বেতনে পাঠদান চালিয়ে যাওয়া দেশের ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২০ হাজার শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণের দাবি জানানো হয়েছে। শিক্ষকদের মানবেতর জীবনযাপন এবং কোমলমতি শিশুদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এই বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের জোর দাবি জানান শিক্ষক নেতারা।বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ঢাকা কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সাদ্দাম হোসেন রুহান মন্ডলের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের অজপাড়াগাঁয়ে অবস্থিত এই ৫ হাজার বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষকই সম্মানজনক শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন (অনার্স-মাস্টার্স ডিগ্রিধারী)। অথচ দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে তারা সম্পূর্ণ বিনা বেতনে কোমলমতি শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে ৫৩৪টি বিদ্যালয় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক নেতারা।বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই ৫ হাজার বিদ্যালয়ে প্রায় ৮ লাখ কোমলমতি শিশু অধ্যয়ন করছে। কিন্তু সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতাভুক্ত না থাকায় এসব শিশুরা উপবৃত্তি ও মিডডে মিলসহ সরকারের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারি সহায়তা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিদ্যালয়গুলো আজ বিলুপ্তির পথে।বেতন-ভাতা না থাকায় শিক্ষকসমাজ আজ চরম অর্থনৈতিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। বহু শিক্ষক বিনা বেতনে কিংবা অর্থাভাবে ধুঁকতে ধুঁকতে মৃত্যুবরণ করেছেন। অনেকে বিনা বেতনে অবসর বা পেনশনে গেছেন। বর্তমান বয়সের কারণে তাদের পক্ষে অন্য কোনো পেশায় প্রবেশ করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সংসার চালাতে কেউ টিউশনি করছেন, কেউ অটো রিক্সা চালাচ্ছেন, আবার কেউ রাতের বেলা সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। অসুস্থ বাবা-মার চিকিৎসা এবং সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে তারা আজ দিশেহারা। বর্তমান বাজারে একটি পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটানো কঠিন হলেও এই শিক্ষকরা বছরের পর বছর বিনা বেতনেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ২০১৭ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন ও সংগ্রাম চালিয়ে আসলেও তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি।প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী প্রতি জেলায় ৭৯টি করে বিদ্যালয় জাতীয়করণের আওতায় আসার সুযোগ রয়েছে। এমতাবস্থায়, এই ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের মাধ্যমে ২০ হাজার শিক্ষক ও তাদের পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং সমাজে মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকারের উচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন শিক্ষক নেতারা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত ৫৩৪টি বিদ্যালয়সহ সমগ্র ৫ হাজার বিদ্যালয় দ্রুত জাতীয়করণের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন তারা।


মন্তব্য