মোঃ সোহেল রানা,বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানের দুর্গম রুমা উপজেলার লেতংপাড়ায় প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়া হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ ও বান্দরবান জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ । সেবা বৃদ্ধি এবং স্বাভাবিক করতে একযোগে কাজ করছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে ।গত প্রায় ১৫ দিনের ব্যবধানে এখানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী খুমী সম্প্রদায়ের ৭ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। মাত্র একদিনের ব্যবধানে একই পরিবার থেকে দুই শিশুর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। পাশাপাশি এলাকাটিতে শতাধিক শিশু হামের উপসর্গে আক্রান্ত থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।নিহত শিশুরা হলো—ফ্রেলে আ খুমী (৯), খ্রেপা খুমী (১৩), শইফ্রা খুমী (১৩), খ্রেতেম ইং খুমী (৬), পলি ইং খুমী (৭), প্রেতেম ইং খুমী (৭) এবং প্রোলং খুমী (৪)। তারা সবাই রুমা সদর ইউনিয়নের দুর্গম লেতংপাড়ার বাসিন্দা।চিকিৎসাধীন অনেকে, ঝুঁকিতে দুর্গম পাহাড় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনের শুরু থেকে রুমার দুর্গম সীমান্ত এলাকায় প্রায় ১০০ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে আশঙ্কাজনক কয়েকজনকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং আরও বেশ কয়েকজন শিশু স্থানীয়ভাবে চিকিৎসাধীন রয়েছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, দুর্গম পাহাড়ে নিয়মিত টিকাদান (ইপিআই) কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণেই পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠেছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিয়েছে। আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ চিকিৎসক দল মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগী শনাক্তকরণ, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা বলছেন, শুধু চিকিৎসাদল মোতায়েনই যথেষ্ট নয়। আক্রান্তের হার যেভাবে বাড়ছে, তাতে দুর্গম এলাকায় দ্রুত জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ, নিরাপদ যাতায়াত এবং দ্রুততম সময়ে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি চালানো প্রয়োজন। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।এক নজরে: হামের প্রাথমিক উপসর্গসমূহ স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, সময়মতো লক্ষণ চিনতে পারলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। হামের শুরুর দিকের লক্ষণগুলো হলো:তীব্র জ্বর: খুব দ্রুত শরীরে উচ্চ তাপমাত্রা (১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত) উঠে যাওয়া।অনবরত কাশি ও সর্দি: শুকনো কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ থাকা।চোখের সমস্যা: চোখ লাল হওয়া, আলোতে তাকাতে কষ্ট হওয়া এবং অনবরত পানি পড়া।শারীরিক দুর্বলতা: অতিরিক্ত ক্লান্তি, শরীর ম্যাথম্যাথে ভাব ও তীব্র ব্যথা।খাবারে অরুচি: ক্ষুধা একেবারে কমে যাওয়া এবং গলা ব্যথা।


মন্তব্য