১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
পূর্ব সুন্দরপুর স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন চান পটুয়াখালীর লড়াকু নেত্রী আফরোজা সীমা সাজেকে বালুঘাটে পারিবারিক সুখ-শান্তি কামনায় বৌদ্ধ ভিক্ষুকে দিয়ে দানকার্য করলেন লক্ষী কুমার চাকমা জেনারেটর আছে, তেল নেই—তীব্র গরমে নাজেহাল হাসপাতালের রোগীরা হযরত শাহ ছুফি একরামুল হক শাহ্ রজায়ী (রহঃ)-বার্ষিক ফাতেহার প্রস্তুতি সভা জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামে ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং ও নাগরিক ভোগান্তি রসুলবাগে চাক্তাই ডাইভারশন খাল: কাগজে পরিষ্কার, বাস্তবে দুর্ভোগ ধর্মশিং চাকমা হত্যার প্রতিবাদ সাজেকে বিক্ষোভ কর্ণফুলীতে ৬ কোটি টাকার চিংড়ি রেণু জব্দ জরিমানা ২ লাখ ভোরে ইউএনও’র অভিযান সাতকানিয়ায় মাটি কাটার ৩ সরঞ্জাম বিকল
আন্তর্জাতিক:
তুরস্কের কাছে ১০০ কোটি ডলার ও সুন্দরী স্ত্রী চাইলেন উগান্ডার সেনাপ্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কোনো সীমাবদ্ধতা মানবে না ইরান।। ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় আহত ইরানি নেতা কামাল খারাজির মৃত্যু নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা ছিল বলে অভিযোগ ইরানের ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ না খুললে নামবে নরক ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ হরমুজ: ভূ-রাজনীতির অগ্নিপথ ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উদ্বেগ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: মার্কিন কোষাগারে বিপুল খরচের বোঝা ৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ: নাসার আর্টেমিস-২ অভিযানের সফল শুরু সমুদ্রতলের ডিজিটাল ধমনী ও ইরান-মার্কিন সংঘাত: বিশ্ব অর্থনীতি কি ধসের মুখে
     
             

সাত মাসেও তদন্ত শেষ হয়নি কুড়িগ্রামের আলোচিত মাইশা হত্যাকান্ডের।

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

বিপুল রায় – কুড়িগ্রামঃ

কুড়িগ্রাম সদরের ভেলাখোপা এলাকায় আলোচিত মাইশা হত্যার,ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরও সাত মাসে এখন পর্যন্ত কোন চারশিট পায়নি,মাইশার বাবা-মা।মাইশার মা-বাবা বলেন,আমার মেয়ের কি বিচার পাব না।আমরা রূপনগর থানায় মামলা করছি,মামলা করাই এক বছরের মত হলো।ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দিছে ১৮-০১-২০২৩ তারিখে,কিন্তু পুলিশ এখন পর্যন্ত কোন রেজাল্ট দিল না।এই বিষয় নিয়ে রূপনগর থানার অফিসার ইনচার্জ নয়ন দাস বলেন,আমি অনেক চেষ্টা করতাছি,এই মাসের মধ্যে মনে হয় চারশিট আদালতে জমা দিয়া হবে।আঙুল অপারেশনে শিশুর মৃত্যু, গোসলের সময় দেখা গেল তলপেটের পুরো অংশ সেলাই করা।কুড়িগ্রামের ৫ বছরের ছোট্ট মেয়ে মাইশা। মাইশার বয়স যখন ৯ মাস তখন চুলার আগুনে পুড়ে যায় তার ডান হাতের আঙুল। ওই সময় রংপুরে চিকিৎসা করে হাতের ক্ষত ভালো হলেও কুঁকড়ে যায় মাইশার ডান হাতের তিন আঙুল।কিছু দিন আগে রাজধানী ঢাকার মিরপুরে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের ডাক্তার মো. আহসান হাবীবের শরণাপন্ন হন মাইশার বাবা মোজাফফর। তিনি জানতে পারেন ভালো চিকিৎসা নিলেই মেয়ের হাত ভালো হবে। চিকিৎসকও বলেছেন, ‘অপারেশন করলে স্বাভাবিক হবে’।চিকিৎসকের কথা অনুযায়ী গত বুধবার (৩০ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে হাতের অপারেশন হয় মাইশার। অস্ত্রোপচারের ঘরে ঘণ্টা দেড়েক রাখার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘ মাইশার অবস্থা খারাপ। তাকে আইসিইউ সাপোর্ট দেয়ার জন্য গ্লোবাল স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিতে হবে।আবারও চিকিৎসকের কথা অনুযায়ী হতবিহ্বল বাবা-মা ছোট্ট মেয়েটিকে নিয়ে চলে যান মিরপুর-১ মাজার রোডের সেই হাসপাতালে। সেখানে নেয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় মারা গেছে মাইশা।কিন্তু কিভাবে মারা গেছে তাদের মেয়ে, বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অপারেশনের জন্য নেয়া টাকা ফিরিয়ে দেয় মাইশার বাবা-মাকে। লাশ বাড়িতে আনতে ঠিক করে দেয় অ্যাম্বুলেন্সও। বাড়ি ফিরে যখন ছোট্ট মাইশাকে দাফনের জন্য গোসল করানো হবে, তখন গোসল করানো নারীরা দেখতে পান মাইশার নাভির নিচে পেটজুড়ে কেটে সেলাই করা। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় নানা গুঞ্জন।এসময় স্বজনরা পুলিশে খবর দেন। কিন্তু স্থানীয় পুলিশ ঢাকায় অপারেশন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলার পরামর্শ দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে নিরুপায় স্বজনরা শিশুটিকে বাড়ির আঙিনায় দাফন করে।কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভেলাকোপা ব্যাপারী পাড়ার মোজাফফর আলী ও বেলি আক্তার দম্পতির মেয়ে মারুফা জাহান মাইশা। নানা ওসমান গণি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।এই বিষয়ে মাইশার বাবা বলেন, ‘মেয়ের হাতের আঙুল ঠিক করার জন্য ঢাকার মিরপুরে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের ডা. আহসান হাবীবের কাছে যাই। তিনি সবকিছু দেখে বলেন, বুধবার (৩০ নভেম্বর) সকালে অপারেশন করা হবে। রূপনগরে আলম মেমোরিয়াল মেডিক্যালে তার শেয়ার আছে জানিয়ে বলেন, সেখানে অপারেশন করালে খরচ কম লাগবে। বুধবার সেখানে হাতের অপারেশন করার সময় মেয়ে মারা যায়। পরে তারা আমাদের টাকা ফেরত দিয়ে ধমকিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। বাড়িতে এসে মেয়েকে গোসল করার সময় স্থানীয় মহিলারা দেখেন, মেয়ের তলপেটের পুরো অংশ সেলাই করা।’দিনমজুর মোজাফফর বলেন, ‘আমরা এটা দেখে নিরুপায় হয়ে পড়ি। আমরা গরিব মানুষ। কিছু বুঝি না। হাত অপারেশন করাতে গিয়ে তারা কেন আমার মেয়ের পেট কাটলো তা জানি না। আমাদের কোনও কাগজপত্রও দেওয়া হয়নি।মাইশাকে গোসল করানো মফিজা খাতুন বলেন, ‘মেয়ের হাতের আঙুল কাটা ছিল। পরে গোসলের সময় দেখতে পাই ওর নিচ পেটের পুরো অংশ কেটে সেলাই করা। পরে সবাইকে জানাই।মাইশার মা বেলি বলেন, ‘আমি কী ভুল করলাম! কেন মেয়েকে নিয়ে গেলাম। ওরা ডাক্তার না, কসাই। আমার মেয়ের পেট কাটলো কেন? ওরা আমার মেয়েকে মেরে ফেলছে। আমি এর বিচার চাই। আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার চাই।পরিবারের পক্ষ থেকে ডা. আহসান হাবীবের একটি ভিজিটিং কার্ড দেয়। ওই কার্ডের নম্বর ধরে কল করা হলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে ডা. আহসান হাবীব বলে দাবি করেন। মাইশার অপারেশন ও মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি অপারেশন করিনি। আমার শেয়ার থাকা আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে অপারেশন অ্যারেঞ্জ করে দিয়েছিলাম। সেখানে ঢাকা মেডিক্যালের প্লাস্টিক সার্জারির চিকিৎসক (সহকারী অধ্যাপক) ডা. শরিফুল ইসলাম অপারেশন করেন। কিন্তু দুর্ঘটনাবশত শিশুটি মারা যায়।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page