প্রেস বিজ্ঞপ্তি >>> বাংলাদেশ আমার অহংকার এই স্লোগান নিয়ে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে জোড়ালো ভূমিকা পালন করে আসছে। র্যাব সৃষ্টিকাল থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধ এর উৎস উদঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতারসহ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। র্যাব-৭, চট্টগ্রাম অস্ত্রধারী সস্ত্রাসী, ডাকাত, ধর্ষক, দুর্ধষ চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, খুনি, ছিনতাইকারী, অপহরণকারী ও প্রতারকদের গ্রেফতার এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক উদ্ধারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করায় সাধারণ জনগনের মনে আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।অপহৃত ভিকটিম ১৭ বছর বয়সের কিশোরী এবং ভোলা’র একটি কলেজে অধ্যায়নরত। ভিকটিম কলেজে আসা-যাওয়ার পথে মোঃ রিয়াজ নামক এক যুবক তাকে প্রায় সময়ই প্রেমের প্রস্তাবসহ বিবাহের প্রলোভন দিয়ে উত্যক্ত করত। ভিকটিম বিষয়টি তার মা-বাবাকে জানালে ভিকটিমের বাবা বিষয়টি মোঃ রিয়াজ এর বাবা-মা ও তার নিকটাত্মীয়দের অবগত করেন। কিন্তু এতে মোঃ রিয়াজ এর পরিবার আসামী রিয়াজকে কোন শাসন না করে জানায় এই বয়সে ছেলে মেয়ের মধ্যে একটু প্রেম ভালবাসা হয়ে থাকে। পরিবারে সাই পেয়ে মোঃ রিয়াজ ভিকটিকে আরো বেশি উত্যক্ত করতে থাকে। তাই ভিকটিমের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ভিকটিমের পরিবার ভিকটিমকে তার খালা’র বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এতে মোঃ রিয়াজ ক্ষিপ্ত হয়ে ভিকটিম এর বাবাকে হুমকি দেয় যে, সে যেকোন সময় তার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যাবে।পরবর্তীতে গত ১১ আগস্ট ২০২৩ ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ০৮৩০ ঘটিকায় ভিকটিম কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্য খালার বাড়ি থেকে বের হলে পথিমধ্যে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আসামী মোঃ রিয়াজ এবং অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের সহায়তায় ভিকটিমকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে একটি সিএনজি যোগে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। উক্ত ঘটনায় অপহৃত ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে গত ২৮ আগস্ট ২০২৩ইং তারিখ ভোলা সদর মডেল থানায় মোঃ রিয়াজ’কে মূল আসামী করে ০৩ জন নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে আসামী করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন, যার নং- ৬৬৪৯২ তারিখ ২৮ আগস্ট ২০২৩ইং, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ ( সংশোধিত/০৩) এবং অধিকতর সংশোধিত/২০২০ এর ৭/৩০। মামলা রুজু হওয়ার পর ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশ জানতে পারে অপহরণকারী ভিকটিমকে নিয়ে চট্টগ্রামে অবস্থান করছে।ভিকটিমের বাবা তার মেয়েকে দ্রত উদ্ধার এবং অপহরণকারীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন। র্যাব-৭, চট্টগ্রাম বিষয়টি মানবিকতার সাথে গ্রহণ করতঃ অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার এবং অপহরণকারীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারী ও ছায়াতদন্ত অব্যহত রাখে। নজরদারী’র একপর্যায়ে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম জানতে পারে অপহরণকারী ও ভিকটিমকে নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজীদ বোস্তামী থানাধীন শেরশাহ কলোনীতে অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ১১ আগস্ট ২০২৩ইং তারিখ র্যাব-৭, চট্টগ্রামের একটি আভিযানিক বর্ণিত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অপহরণকারী আসামী মোঃ রিয়াজ (২৬), পিতা- মোঃ লোকমান, সাং-মধ্য জয়নগর, থানা-দৌলতখান, জেলা-ভোলা’কে গ্রেফতার এবং অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে সে বিভিন্ন প্রলোভন এবং অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের আশায় কিশোরী ভিকটিমকে অপহরণ করেছিল।গ্রেফতারকৃত আসামী সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


মন্তব্য