২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
আন্তর্জাতিক:
শাম্মী তুলতুল—বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়লেন মেসি কুরাসাওকে হারিয়ে ৭-১ গোলের স্মৃতি ফিরিয়ে আনল জার্মানি মিলান বাংলা প্রেসক্লাব ইতালির আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত। মার্কিন বিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের লেবাননে ইসরাইলি হামলা ৩ স্বাস্থ্যকর্মীসহ নিহত ৫ জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে লড়াইয়ে ৪ শীর্ষ প্রার্থী মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিপাকে ভারতের বিমান খাত: জ্বালানির আকাশচুম্বী দামে বন্ধ হওয়ার শঙ্কা দেশের সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা, জোরদার করা হয়েছে নজরদারি লাহোর থেকে যাতি উমরা স্মৃতির অলিন্দে পাঞ্জাবের আতিথ্য
     
             

ভাঙ্গুড়ার হাসু দর্জি হত্যার রহস্য উদঘাটন করলো পুলিশ

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

জামাল হোসেন পাবনা জেলা প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় গত ১৫ আগস্ট রাতে নিজ ঘরে হত্যাকাণ্ডের শিকার দর্জি হাসুর হত্যাকারী আসামিকে আটক করেছে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ। আটক করা হয় বলে জানিয়েছে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ। তাবিজ করতে গিয়ে ভায়রাভাই হাসুকে খুন করেন রিমন নামের ওই আসামি।গ্রেফতার হওয়া আসামি রিমন (২৩) উপজেলার রাঙ্গালিয়া (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের আতিকুল ইসলামের ছেলে। সম্পর্কে তিনি ও হাসু একে অপরের ভায়রাভাই। তিনি পেশায় শ্যালোইঞ্জিনচালিত গাড়ির চালক। প্রাথমিকভাবে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।রিমনের স্বীকারোক্তি অনুসারে, ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ আসামিকে নিয়ে হাসুর বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক থেকে হত্যায় ব্যবহৃত লোহার শাবল ও দা উদ্ধার করেছে।ভাঙ্গুড়া থানার ওসি রাশিদুল ইসলাম বলেন, ধৃত আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র হাসুর বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। সোমবার সকালে প্রেস ব্রিফিং করে বিস্তারিত জানানো হবে।পুলিশের একটি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা গেছে, হাসুর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী সাজেদা পুনরায় ঘর করতে কবিরাজের কাছ থেকে একটি তাবিজ নিয়ে আসেন। কবিরাজের পরামর্শ মতে সাজেদা ওই তাবিজ হাসুর বাড়িতে মাটির নিচে পুঁতে রাখতে ছোট বোনের স্বামী রিমনের সাহায্য চান। সেই অনুযায়ী রিমন ১৫ আগস্ট মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে হাসুর বাড়িতে গিয়ে ওই তাবিজ মাটিতে পুঁতার সময় হাসু তাকে দেখে ফেলে।এরপর হাসু তাকে ডেকে তার ঘরে নিয়ে গিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং রিমনকে জিজ্ঞেস করেন- সে কেন রাতে চুপিচুপি তার বাড়িতে এসেছেন। রিমন তার কথার জবাব না দিলে হাসু স্থানীয় কাউন্সিলর ও থানা পুলিশকে ঘটনা জানাতে চাইলে রিমনের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়।একপর্যায়ে রিমন পাশে থাকা লোহার শাবল দিয়ে হাসুর মাথায় আঘাত করেন। এতে হাসু মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পাশে থাকা ধারালো লোহার দা দিয়ে মাথায় আরও তিন-চারটি কোপ দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর তিনি বাহির থেকে ঘর তালা দিয়ে হত্যাকাণ্ড ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ঘরের বাহির থেকে সুড়ঙ্গ তৈরি করে চুরি সংঘটিত হয়েছে বলে প্রমাণের চেষ্টা করে।ভাঙ্গুড়া থানার ওসি রাশিদুল ইসলাম বলেন, সুড়ঙ্গ কাটা শেষে রিমন পুনরায় ঘরে এসে হত্যায় ব্যবহৃত লোহার শাবল ও লোহার দা টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন। ফিরে যাওয়ার সময় তিনি হাসুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি নিয়ে যান।তার নিজের ফোনের চার্জ না থাকায় হাসুর মোবাইল ফোনে নিজের সিমকার্ড ঢুকিয়ে ভোররাতে একটি কল করে। মূলত সেই ফোনকলের সূত্র ধরেরই রিমনকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয় ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ। ঘটনায় আরও কেউ সম্পৃক্ত আছে কিনা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page