আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। পার্বত্য জনপদে বেজে উঠেছে উৎসবের সুর। নীল জলরাশির সাঙ্গু নদীতে বর্ণিল ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে বান্দরবানে শুরু হয়েছে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ উৎসব ‘বিজু-বিসু’। রোববার সকালে শহরের মধ্যমপাড়া এলাকায় সাঙ্গু নদীর ঘাটে জড়ো হন তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ও তরুণ-তরুণীরা।
অতীতের সব দুঃখ-গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বছরের কল্যাণ কামনায় তারা গঙ্গা দেবী ও জলবুদ্ধের চরণে শ্রদ্ধা জানিয়ে নদীতে ফুল ভাসান। পাহাড়ি নারীদের রঙিন ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সাঙ্গুর পাড় যেন এক খণ্ড উৎসবে পরিণত হয়।
আজ চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের ‘ফুল বিজু’ পালিত হচ্ছে। সোমবার উদযাপিত হবে উৎসবের মূল আকর্ষণ ‘মূল বিজু’। কেবল ফুল ভাসানোই নয়, এই উৎসবকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের ঘরে ঘরে চলছে,বয়স্কদের পূজা ও আশীর্বাদ গ্রহণ।ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরি ও আপ্যায়ন।ঘিলা খেলাসহ লোকজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাচ-গান।
বান্দরবানে শুধু চাকমা বা তঞ্চঙ্গ্যা নয়, মারমাদের সাংগ্রাই,ত্রিপুরাদের বৈসু, এবং ম্রো সম্প্রদায়ের ‘চাংক্রান’ উৎসবকে ঘিরে এখন সাজ সাজ রব। আগামী ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই বর্ণিল আয়োজন। একইসাথে বাঙালির চিরায়ত পহেলা বৈশাখ যুক্ত হওয়ায় পাহাড়ের ১২টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালিদের পদচারণায় মুখরিত এখন পুরো এলাকা।
উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ভিড় জমিয়েছেন বান্দরবানে। সব মিলিয়ে উৎসব, আনন্দ আর প্রার্থনার মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত পাহাড়ের মানুষ।


মন্তব্য