মিজানুর রহমান বিশেষ প্রতিনিধি, ফরিদপুর :
ফরিদপুরের নগরকান্দায় নাজমা বেগম (৪১) নামে এক বিধবা নারীকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর দেবর আবু ছালেক সবুজ ও শাশুড়ি জামেনার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় লিটন শেখ নামে আরও একজনের বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাব দেওয়া, ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা এবং জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরে ভিডিও ধারণের অভিযোগ করেছেন ওই নারী। এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী।অভিযোগকারী নাজমা বেগম নগরকান্দা উপজেলার জগদিয়া বালিয়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী সিহাবউদ্দীন প্রায় ছয় মাস আগে মারা যান। তাঁদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।লিখিত অভিযোগে নাজমা বেগম উল্লেখ করেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে লিটন শেখ তাঁকে ফোন করে উপজেলা পর্যায়ে একটি ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেন। সরল বিশ্বাসে তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ছবি তাঁকে দেন। পরে লিটন তাঁকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দেন এবং ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে একটি মিষ্টির দোকানে নিয়ে জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরে ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনার জের ধরে গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে তাঁর দেবর আবু ছালেক সবুজ ও শাশুড়ি জামেনা তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলে অভিযোগ করেন নাজমা। এ সময় আবু ছালেক সবুজ ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেন বলেও তিনি দাবি করেন।এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে নির্যাতন করে আসছেন এবং বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। স্বামী হারানোর পর তিন সন্তানকে নিয়ে তিনি অসহায় অবস্থায় রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।নাজমা বেগমের দাবি, ঘটনাগুলো সম্পর্কে এলাকার অনেকেই অবগত রয়েছেন এবং প্রয়োজনে তাঁরা সাক্ষ্য দিতে পারবেন। সবার সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।অভিযোগের বিষয়ে নগরকান্দা থানা অফিসার ইনচার্জ রাসুল সামদানী আজাদ বলেন,” থানায় অভিযোগ হয়েছে।তদন্ত চলছে। মামলা রেকর্ড করে আদালতে প্রেরণ করা হবে।ন্যায় বিচার দাবি করছেন ভুক্তভোগী নারী নাজমা বেগম।





মন্তব্য