১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
নারীর নিরাপত্তায় পথ দেখাচ্ছে ‘সেইভ আওয়ার উইমেন’ নাগেশ্বরীতে সার ডিলারশিপ নিয়ে বিরোধ, হত্যার হুমকির অভিযোগে ছাত্রদলের মানববন্ধন নরসিংদীর শিবপুরে পূজা মন্ডপে অনুদান প্রদান করছেন মনজুর এলাহী এমপি জামালপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে জাল মার্কিন ডলারসহ গ্রেপ্তার ২ বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন মাইলফলক, পাবনা পবিস-১ ও শফিক গ্রুপের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ভবন নির্মাণে বিধি ভাঙলে আইনি ব্যবস্থা: গণপূর্তমন্ত্রী ঠাকূরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই-নির্বাচন কমিশনার.। মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি রুহিয়ায় ২৫ বছর ধরে সাইকেলে সংবাদপত্র বিলি, জীবিকার সংগ্রামে হাসান আলী। মহেশখালীতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন
আন্তর্জাতিক:
নারীর নিরাপত্তায় পথ দেখাচ্ছে ‘সেইভ আওয়ার উইমেন’ সাতকানিয়ায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে সংবাদ সম্মেলন। রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা: ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের সহায়তার দাবি এনসিপির নেপালে সাহসী সাংবাদিকতার জন্য শহীদুল ইসলাম বাবরকে ফুলেল শুভেচ্ছা সমাজসেবায় বিশেষ অবদান: স্বর্ণপদক ও সম্মাননা পেলেন নাহিদ উজ্জামান শিল্পী শিমলার মুকুটে নেপাল-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অনন্য স্বীকৃতি জিয়া ও খালেদা জিয়ার নামে থাকা ৫৩৪টিসহ ৫ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের দীর্ঘ দাবি। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ফের ভাইরাল ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সেই চ্যালেঞ্জ জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট; বাঙালির হৃদয়ে চির অমর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত শিল্পী শিমলা
     
             

দোতারার তারে বাঁধা বাউল আরেজ আলীর জীবন

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

নিজস্ব প্রতিবেদক >>> নওগাঁর বদলগাছীর সেনপাড়া গ্রামের একটি সাধারণ পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন আরেজ আলী, ১৯৬৬ সালে। তবে তার জীবন একেবারেই সাধারণ ছিল না। যিনি নিজেকে কখনো বড় শিল্পী বলে দাবি করেন না, অথচ প্রায় ৫ দশক ধরে তিনি দোতারার তারে বেঁধেছেন অন্তরের ভাষা-রচনা করেছেন তিন শতাধিক গান, তৈরি করেছেন নিজ হাতে প্রায় তিন হাজার দোতারা। নিঃশব্দ এই সাধক হয়ে উঠেছেন বাউল গানের এক মৃদু কিন্তু অনন্য স্বর।বাড়ির আঙিনায় বাবার কাছ থেকে পাওয়া প্রথম সুরের হাতছানি তাকে বাউলসাধনায় টেনে নিয়ে যায়। বড় ভাইয়ের সান্নিধ্যেও সুরের প্রেম আরও দৃঢ় হয়। সেই শৈশবেই গানের সঙ্গে যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, তা আজও অটুট। এমনকি ১৯৭১ সালের যুদ্ধকালীন ভয়াবহ স্মৃতিও তার হৃদয়কে আবেগে ভরিয়ে তোলে। সেই আবেগ থেকেই ১৯৮২ সালে জন্ম নেয় তার প্রথম দেশপ্রেমের গান — “মা গো ভাই কোথায় গেলো…”তবে শুধু দেশ নয়, আরেজ আলীর গানে আছে আত্মতত্ত্ব, আধ্যাত্মিকতা, ভালোবাসা আর বেদনার অনুরণন। কখনো তিনি লেখেন:“কার কাছে কই, আমার প্রাণের মুর্শিদ বিনে, বন্ধূ কেহ নাই…”-আবার কখনো তীব্র দার্শনিকতা ছুঁয়ে যান:“ওরে শ্মশান ঘাটে মাটির উপর কাষ্ঠের বিছানায়, চিতায় পুড়ে সাধের দেহ জলে ভেসে যায়…”এই সাধনার পেছনে ছিলেন একজন সহযাত্রী — তার সহধর্মিণী জাহানারা। যিনি শুধু সংসারের সঙ্গী ছিলেন না, ছিলেন তার গানের প্রথম শ্রোতা, ভক্ত এবং প্রেরণা। স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই এক গভীর শূন্যতা ঘিরে ধরে তাকে। সেই নিঃসঙ্গতা যেন প্রতিটি গানের শব্দে, সুরে, বিরতিতে অনুরণিত হয়।আজ তিনি একজন নৈশ প্রহরী, বদলগাছী মহিলা কলেজে কাজ করেন। প্রতিদিনের আয়ে কোনোমতে সংসার চলে। সামনে আসছে তার অবসর — আর সেই ভাবনাই তাকে করে তোলে আরও উদ্বিগ্ন। গানের এত বিশাল ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও, জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগেন তিনি। জীবনের শেষ অধ্যায়ের কথা ভাবলে তার হৃদয়ে চেপে বসে দুশ্চিন্তার মেঘ।তবু গানের সাধনা থেকে সরে যাননি। নিজের গড়া দোতারা হাতে আজও তিনি গেয়ে যান বেদনার, আত্মার, ভালোবাসার কথা। তিনি হয়তো তার নিজের চোখে ‘শিল্পী’ নন, কিন্তু তার সৃষ্টি, তার সংগ্রাম, তার জীবনযাপন — এসবই বলে দেয় তিনি কতখানি বড় এক মানুষ, এক শিল্পী।আরেজ আলী এখন শুধু একজন নাম নয়, তিনি দোতারার তারে বাঁধা এক জীবন্ত ইতিহাস। যে ইতিহাস হয়তো একদিন হারিয়ে যাবে, কিন্তু তার সুর থাকবে মানুষের হৃদয়ে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page