৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
ধর্মীয় মূল্যবোধই পারে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে: শাহজাহান চৌধুরী লোহাগাড়ায় মাটি কাটতে বাধা দেওয়ায় জামায়াত কর্মীর ওপর হামলা, হাসপাতালে ভর্তি নোয়াখালীতে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দেবিদ্বারে মৎস্যজীবীদলের দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত। সড়ক দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নগরকান্দায় পুলিশের অভিযানে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার, ৩২ জন আটক জলাবদ্ধতা কমাতে চট্টগ্রামে ১৭ স্লুইস গেট প্রস্তুত, বাকি ৪টির কাজ চলছে চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৮ মোটরসাইকেলের শোভাযাত্রা অপরাধ দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি : মন্ত্রী মীর হেলাল যুদ্ধ উত্তেজনার মাঝেও জ্বালানিবাহী ৮ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায়
  • প্রচ্ছদ
  • অন্যান্য
  • দোতারার তারে বাঁধা বাউল আরেজ আলীর জীবন
  • দোতারার তারে বাঁধা বাউল আরেজ আলীর জীবন

      বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

    নিজস্ব প্রতিবেদক >>> নওগাঁর বদলগাছীর সেনপাড়া গ্রামের একটি সাধারণ পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন আরেজ আলী, ১৯৬৬ সালে। তবে তার জীবন একেবারেই সাধারণ ছিল না। যিনি নিজেকে কখনো বড় শিল্পী বলে দাবি করেন না, অথচ প্রায় ৫ দশক ধরে তিনি দোতারার তারে বেঁধেছেন অন্তরের ভাষা-রচনা করেছেন তিন শতাধিক গান, তৈরি করেছেন নিজ হাতে প্রায় তিন হাজার দোতারা। নিঃশব্দ এই সাধক হয়ে উঠেছেন বাউল গানের এক মৃদু কিন্তু অনন্য স্বর।বাড়ির আঙিনায় বাবার কাছ থেকে পাওয়া প্রথম সুরের হাতছানি তাকে বাউলসাধনায় টেনে নিয়ে যায়। বড় ভাইয়ের সান্নিধ্যেও সুরের প্রেম আরও দৃঢ় হয়। সেই শৈশবেই গানের সঙ্গে যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, তা আজও অটুট। এমনকি ১৯৭১ সালের যুদ্ধকালীন ভয়াবহ স্মৃতিও তার হৃদয়কে আবেগে ভরিয়ে তোলে। সেই আবেগ থেকেই ১৯৮২ সালে জন্ম নেয় তার প্রথম দেশপ্রেমের গান — “মা গো ভাই কোথায় গেলো…”তবে শুধু দেশ নয়, আরেজ আলীর গানে আছে আত্মতত্ত্ব, আধ্যাত্মিকতা, ভালোবাসা আর বেদনার অনুরণন। কখনো তিনি লেখেন:“কার কাছে কই, আমার প্রাণের মুর্শিদ বিনে, বন্ধূ কেহ নাই…”-আবার কখনো তীব্র দার্শনিকতা ছুঁয়ে যান:“ওরে শ্মশান ঘাটে মাটির উপর কাষ্ঠের বিছানায়, চিতায় পুড়ে সাধের দেহ জলে ভেসে যায়…”এই সাধনার পেছনে ছিলেন একজন সহযাত্রী — তার সহধর্মিণী জাহানারা। যিনি শুধু সংসারের সঙ্গী ছিলেন না, ছিলেন তার গানের প্রথম শ্রোতা, ভক্ত এবং প্রেরণা। স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই এক গভীর শূন্যতা ঘিরে ধরে তাকে। সেই নিঃসঙ্গতা যেন প্রতিটি গানের শব্দে, সুরে, বিরতিতে অনুরণিত হয়।আজ তিনি একজন নৈশ প্রহরী, বদলগাছী মহিলা কলেজে কাজ করেন। প্রতিদিনের আয়ে কোনোমতে সংসার চলে। সামনে আসছে তার অবসর — আর সেই ভাবনাই তাকে করে তোলে আরও উদ্বিগ্ন। গানের এত বিশাল ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও, জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগেন তিনি। জীবনের শেষ অধ্যায়ের কথা ভাবলে তার হৃদয়ে চেপে বসে দুশ্চিন্তার মেঘ।তবু গানের সাধনা থেকে সরে যাননি। নিজের গড়া দোতারা হাতে আজও তিনি গেয়ে যান বেদনার, আত্মার, ভালোবাসার কথা। তিনি হয়তো তার নিজের চোখে ‘শিল্পী’ নন, কিন্তু তার সৃষ্টি, তার সংগ্রাম, তার জীবনযাপন — এসবই বলে দেয় তিনি কতখানি বড় এক মানুষ, এক শিল্পী।আরেজ আলী এখন শুধু একজন নাম নয়, তিনি দোতারার তারে বাঁধা এক জীবন্ত ইতিহাস। যে ইতিহাস হয়তো একদিন হারিয়ে যাবে, কিন্তু তার সুর থাকবে মানুষের হৃদয়ে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

    মন্তব্য

    আরও পড়ুন

    You cannot copy content of this page