আব্দুল্লাহ আল মারুফ,চট্টগ্রাম
দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা ও পটিয়ার উপকূলীয় মাঠে লবণ উৎপাদনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রায় আট হাজার চাষি। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে আগামী সপ্তাহ থেকেই পুরোদমে মাঠে নামবেন তারা। চলতি মৌসুমে এই তিন উপজেলার প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে লবণ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালীর পুঁইছড়ি, ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, চাম্বল, শীলকূপ, সরল, কাথরিয়া, খানখানাবাদ (আংশিক) এবং পার্শ্ববর্তী আনোয়ারা ও পটিয়ার বিস্তীর্ণ জনপদ লবণ উৎপাদনের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে পরিচিত। শীতের আমেজ শুরু হতেই এসব এলাকার কৃষকরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন মাঠ প্রস্তুত করতে। সনাতন পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক পলিথিন পদ্ধতিতে লবণ চাষ করায় বর্তমান সময়ে উৎপাদন প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের মোট চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে থাকে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) চাষিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে আসছে।মাঠ নামার প্রাক্কালে কৃষকদের মাঝে যেমন নতুন স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছে, তেমনি রয়েছে নানা শঙ্কাও।গন্ডামারা ইউনিয়নের লবণচাষি ফজল আহমদ বলেন,গত বছর আমরা অধিক জমিতে লবণ চাষ করেছিলাম, কিন্তু সে তুলনায় উৎপাদন খরচও অনেক বেড়ে গেছে। এখন যদি নামমাত্র মূল্যে বিদেশি লবণ আমদানি করা হয়, তবে আমরা উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য পাবো না।বাঁশখালীর ছনুয়া এলাকার চাষি আবুল কাসেম জানান,ঋণদেনা আর চড়া সুদে টাকা নিয়ে মাঠে নামতে হয়। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও পরে বৈরী আবহাওয়া ও সঠিক দাম না পাওয়ার ভয় আমাদের তাড়িয়ে বেড়ায়।পটিয়ার লবণচাষি মোহাম্মদ আলী বলেন, আমাদের উৎপাদিত লবণের মান ভালো হলেও সিন্ডিকেটের কারণে অনেক সময় আমরা নায্য দাম থেকে বঞ্চিত হই। সরকারের পক্ষ থেকে যদি তদারকি বাড়ানো হয়, তবে চাষিরা বাঁচবে।আনোয়ারার বারশত এলাকার চাষি জয়নাল আবেদীন বলেন,লবণ উৎপাদনে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হয়। কিন্তু সঠিক সময়ে সার, পলিথিন বা আর্থিক সহায়তা না পেলে আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যায়।লবণচাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি সাহাব উদ্দীন বলেন, “কাগজপত্রে কৃত্রিম ঘাটতি দেখানো হলেও বাস্তবে মাঠে পর্যাপ্ত লবণ রয়েছে এবং চাষিদের গোডাউনেও তা মজুত আছে। অথচ অবৈধ পথে এবং নামে-বেনামে ঠিকই বিদেশি লবণ ঢুকছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের লবণচাষিরা চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবেন।সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এস, এম, এম আলমগীর আলকাদেরী বলেন,সাধারণত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে শীত ও কুয়াশার কারণে লবণ উৎপাদন কিছুটা কম হয়ে থাকে। সম্ভাব্য যে কোনো ধরনের ঝুঁকি বা সংকট এড়াতেই সরকার বিধি মোতাবেক বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রতি মণ লবণের বাজারমূল্য ৩৪০ টাকা রয়েছে। গত মৌসুমে বাঁশখালী, আনোয়ারা ও পটিয়ায় ৯ হাজার ৯৬৫ একর জমিতে ৭ হাজার ৭৪০ জন চাষি লবণ উৎপাদন করেছিলেন। চলতি মৌসুমে অনুকূল পরিবেশের কারণে জমি ও চাষির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে মাঠে পর্যাপ্ত লবণ মজুত রয়েছে, যা দিয়ে দেশের প্রায় আড়াই মাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব।





মন্তব্য