১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
পটুয়াখালীতে মে দিবস ও স্বাস্থ্য দিবস পালন: আলোচনায় শ্রমিকের নিরাপত্তা ও ন্যায্য মজুরি কক্সবাজারে প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে প্রতারণা কিশোর গ্রেফতার। বাঁশখালী ইকোপার্কের আতংক ছিনতাইকারী জসিম গ্রেফতার চাঁপাইনবাবগঞ্জে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর টোল প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত অবশেষে পটিয়ায় নির্মিত হচ্ছে মিনি স্টেডিয়াম। চট্টগ্রামে কোস্ট গার্ডের হাতে ৭০ লাখ টাকার বিদেশি মদ জব্দ ইপিজেডে কোস্টগার্ডের অভিযান ৭০ লাখ টাকার বিদেশি মদ উদ্ধার প্রতিপক্ষকে ঘুষি দিয়ে ১৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক শত্রুর হার্ট অ্যাটাক হওয়ার মতো অস্ত্র সামনে আনতে যাচ্ছে ইরান ফ্যাসিস্ট আমলে নির্যাতনের ১৮৫৫ মামলা: সংসদে আইনমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক:
লেবাননে ইসরাইলি হামলা ৩ স্বাস্থ্যকর্মীসহ নিহত ৫ জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে লড়াইয়ে ৪ শীর্ষ প্রার্থী মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিপাকে ভারতের বিমান খাত: জ্বালানির আকাশচুম্বী দামে বন্ধ হওয়ার শঙ্কা দেশের সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা, জোরদার করা হয়েছে নজরদারি লাহোর থেকে যাতি উমরা স্মৃতির অলিন্দে পাঞ্জাবের আতিথ্য তুরস্কের কাছে ১০০ কোটি ডলার ও সুন্দরী স্ত্রী চাইলেন উগান্ডার সেনাপ্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কোনো সীমাবদ্ধতা মানবে না ইরান।। ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় আহত ইরানি নেতা কামাল খারাজির মৃত্যু নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা ছিল বলে অভিযোগ ইরানের ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ না খুললে নামবে নরক
     
             

তানোরে শীবনদীতে মাছ ধরা উৎসব

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

সোহেল রানা,তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধি >>> পলো বাওয়া বা পলো দিয়ে দলবদ্ধভাবে মাছ ধরা বাংলার প্রাচীন এক ঐতিহ্য। বাঁশ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি ঝাঁপিকেই বলা হয় পলো। আর পলো বাওয়া উৎসবের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শুষ্ক মৌসুমে নদীতে দলবেঁধে পলো নিয়ে মাছ ধরা। একটা সময় মৌসুম এলেই সৌখিন মাছ শিকারিরা নদী নালার পানিতে দলবেঁধে নেমে পড়তেন মাছ শিকারে। নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দিন তারিখ ঠিক করে পর্যায়ক্রমে ছোট ছোট সব নদী ও বিলে উৎসবমুখর পরিবেশে শিকার করা হতো ছোট বড় মাছ। শুকনো জলাশয়ে প্রতি বছরের মাঘ থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে সৌখিন মাছ শিকারিদের এই পলো বাওয়া উৎসব। দখল, দুষণ ও ভরাটসহ নদীর অস্থিত সংকটের কারণে এখন আর খুব একটা চোখে পড়ে না ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব। প্রতি বছর ন্যায় শীত মওসুমে রাজশাহীর তানোর-মোহনপুর উপজেলা সীমান্তঘেঁসে বয়ে যাওয়া শীবনদী ও বারনই নদীর পানি কমতে শুরু করলে বিভিন্ন গ্রামের মুরুব্বীয়ানদের পরামর্শক্রমে আজ শুক্রবার ৭ মার্চ সকালে শীবনদীর বিলকুমারী বিলে, বুরুজ খালে ও কালিগঞ্জ খাল পর্যন্ত কয়েকটি গ্রামের প্রায় শতাধিক মানুষ পলো, জাল ও দড়িসহ মাছ শিকারের বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে শীবনদীতে হাজির হন। মাছ শিকার উৎসব দেখা উপলক্ষে আশপাশের লোকজনের উপস্থিতি বিরাজ করে উৎসবমূখর পরিবেশ। শিকারীদের অনেকেই বোয়াল ও শোলসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরেন। পলো দিয়ে পানিতে একের পর এক ঝাপ দেওয়া আর হৈহুল্লোর করে সামনের দিকে ছন্দের তালে তালে এগিয়ে যাওয়া চিরচেনা গ্রামবাংলার অপরূপ সৌন্দর্যময় এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। মাছ শিকার উৎসবে পলো ছাড়াও ফার জাল, ছিটকি জাল, ঝাকি জাল ও পেলুন ইত্যাদি দিয়েও মাছ শিকার করেন অনেকে। পলোসহ দেশীয় উপকরণ দিয়ে মাছ শিকার করলে যেমন খরচ কম তেমনি মাছের হয় না বংশ বিনাশ। রাজশাহী জেলার শীবনদীতে মাছ শিকারের জন্য পলোর ব্যবহার হয়ে আসছে বহু পুরনোকাল থেকে। বাঁশের তৈরি এই পলো মাছ শিকারসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করেন শ্রমিকরা কৃষকরা। পলো দিয়ে মাছ শিকার বিষয়ে জিওল গ্রামের সুরুজ বলেন, এই শীবনদীতে ছোট বেলা আমরা অনেক উৎসব মুখর পরিবেশে বাবার সাথে পলো দিয়ে বড় বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করেছি। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই নদীর নব্যতা হারিয়ে গেছে। সেই সাথে হারিয়ে গেছে নদীর মাছ। তাই আগের চেয়ে মাছ ধরা উৎসব অনেকটা কম হয়। চাঁদপুর গ্রামের নাছের আলী জানান, আগের দিনে শীতের শেষে মাঘ মাস হতে বৈশাখ মাস পর্যন্ত পলো দিয়ে খাল বিল নদী নালাতে দলবদ্ধ মাছ শিকার করত গ্রামের মানুষরা। কালের পরিক্রমায় আর আধুনিকতার ছৌয়ায় এ দূশ্য আর চোখে পড়ে না। এ দূশ্যগুলোর মাছে গ্রামবাংলার সেই পূর্বের চিত্র ফুটে উঠে।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page