এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম >>> জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র ঝুঁকিতে থাকা চট্টগ্রামকে সুরক্ষিত রাখতে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই মহাপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৬ মে(শনিবার) নগরীর সার্কিট হাউসে “Roadmap for Mainstreaming Climate Resilience in Urban Planning” শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।স্বেচ্ছাসেবী ও গবেষণা সংস্থা অর্গানাইজেশন ফর ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট সোসাইটি (ওডিএমএস) এ সেমিনারের আয়োজন করে।অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ওডিএমএস-এর চিফ এক্সিকিউটিভ মুহাম্মদ মতিউর রহমান চৌধুরী মিল্টন। তিনি বলেন, একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও দুর্যোগ সহনশীল সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ওডিএমএস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত এক লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং মডেল চট্টগ্রামের উপকূলকে দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষায় কার্যকর ‘বায়ো-শিল্ড’ হিসেবে ভূমিকা রাখবে।সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের ক্যাবিনেট ডিভিশনের প্রশাসন ও বিধি উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ শামীম সোহেল।মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা নদী গবেষণাগারের সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওডিএমএস-এর চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম।মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, তীব্র জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে নগরীর প্রাকৃতিক খালগুলোকে দখলমুক্ত ও পুনরুদ্ধার করতে হবে। পাশাপাশি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, জলবায়ু অভিযোজন বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি ছাড়া কোনো টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ শামীম সোহেল বলেন, নগর পরিকল্পনাকে এখনই জলবায়ু সহনশীল করা না গেলে টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, ওডিএমএস-এর মতো গবেষণা সংস্থার মাঠপর্যায়ের তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর মডেল সরকারি নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।সেমিনারে বিশেষ অতিথি ও আমন্ত্রিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ সালেহ জহুর, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুসরাত সুলতানা, চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, সিএমপির (ডিবি) ডিসি আব্দুর রহমান, বিটিভি চট্টগ্রামের বার্তা সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপপরিচালক শাহ আলম এবং চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি।এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন ইউএসটিসির সহযোগী অধ্যাপক ড. শাহাবুদ্দীন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের সহকারী অধ্যাপক নাবিলা নুসরাত, সহকারী অধ্যাপক নাইনা ইসলাম এবং ড. নূরে আলম সিদ্দিকী।আরও বক্তব্য দেন দৈনিক পূর্বদেশের নিউজ এডিটর আবু মোশাররফ রাসেল, সিভাসুর জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর খলিলুর রহমান এবং চট্টগ্রাম জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট ফেরদৌস মোর্শেদ খান।সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কামরুল পাশা ভূঁইয়া, ব্যাংকার সাজ্জাদুল আলম, জিয়াউর রহমান ও রাজীব আহসানসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সেমিনারে মতামত তুলে ধরেন।সমাপনী বক্তব্যে অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু ঝুঁকি প্রশমনে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি অ্যাকাডেমিক গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নের মধ্যে সুদৃঢ় সেতুবন্ধন প্রয়োজন। তিনি বলেন, সেমিনার থেকে প্রাপ্ত সুপারিশসমূহ চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।সেমিনারে ওডিএমএস-এর গবেষক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পরিবেশকর্মীরা অংশ নেন।


মন্তব্য