আব্দুল্লাহ আল মারুফ চট্টগ্রাম।। চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ এলাকায় বনফুল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘কিশোয়ান’-এর একটি গুদামে সরকারি সিলযুক্ত প্রায় পাঁচ হাজার বস্তা গম পাওয়ার তথ্য মিলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা গুদামটিতে ‘খাদ্য অধিদপ্তরের জন্য’ লেখা বিপুল পরিমাণ এই গমের সন্ধান পান।
উদ্ধার হওয়া এসব খাদ্যশস্য কোন উৎস থেকে আনা হয়েছে, সেখানে কীভাবে সংরক্ষণ করা হলো কিংবা নির্ধারিত গন্তব্যের পরিবর্তে গুদামে কীভাবে পৌঁছাল—তা নিয়ে নানামুখী গুঞ্জন ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, আলোচিত এই গুদামটি দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ও বনফুল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মোতালেবের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, অবৈধ মজুতের প্রাথমিক খবরের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে এ বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
তিনি আরও জানান, পুলিশ পৌঁছানোর পর গুদামটির দায়িত্বরত কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে এসব গম খোলা বাজারে বা সরকারি নিলামের মাধ্যমে কেনা হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে তারা কিছু কাগজপত্র দেখিয়েছেন। বর্তমানে জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পেশ করা এসব নথিপত্রের সত্যতা ও আইনি বৈধতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হতে খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সরকারি গম পরিবহন ও খালাসের স্বাভাবিক নিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে পতেঙ্গা সাইলোর তত্ত্বাবধায়ক রাকিবুল হাসান জানান, খাদ্য অধিদপ্তরের কোনো গম নির্ধারিত স্থান বা গুদাম ছাড়া অন্য কোথাও নামানোর সুযোগ নেই।
তিনি প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করে বলেন, “পতেঙ্গা সাইলো থেকে গমবোঝাই ট্রাক ছাড়ার সময় ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে অফিশিয়াল চালানপত্র হস্তান্তর করা হয়। ট্রাক নির্দিষ্ট গুদামে পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট গুদাম কর্মকর্তা বা ম্যানেজার মালামাল বুঝে নিয়ে ওই চালানে স্বাক্ষর করেন। পরে অনুমোদিত চালানটি সাইলোতে ফেরত আসে। এই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সাধারণত চার থেকে সাত দিন সময় লাগে।
তবে পরিবহনের সময় পথিমধ্যে কোনো অসাধু উপায়ে গম সরিয়ে ফেলা হলেও, গন্তব্যের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা চালান সাইলোতে ফেরত এলে এই ধরনের অনিয়ম ধরা ফেলা বেশ জটিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কিশোয়ানের গুদামে পাওয়া গমের আসল উৎস, উন্মুক্ত নিলামের দাবির গ্রহণযোগ্যতা এবং পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্নীতি হয়েছে কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ তদন্ত এবং যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত ও আইনগত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।





মন্তব্য