আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। সরকারি দপ্তরের প্রথাগত ফাইলবন্দি নিয়ম আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সাপ্তাহিক গণশুনানিকে তিনি কেবল দাপ্তরিক কাজ নয়, বরং আর্তমানবতার সেবায় এক অনন্য প্ল্যাটফর্মে পরিণত করেছেন। বুধবার (৪ মার্চ) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে আবারও ফুটে উঠেছে তার এই মানবিক রূপ।
অসহায়দের শেষ আশ্রয়স্থল এবারের গণশুনানিতে ২০ জন সেবাপ্রত্যাশীর অভাব-অভিযোগ ও দুর্দশার কথা অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে শোনেন জেলা প্রশাসক। বিশেষ করে অসুস্থ, দুস্থ এবং শিক্ষার্থী—এই তিন শ্রেণির মানুষের সংকট নিরসনে তিনি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মোঃ তারেক হোসেনের মেয়ে দীর্ঘ দুই মাস ধরে জটিল চর্মরোগে আক্রান্ত। স্বল্প বেতনে সংসার চালিয়ে মেয়ের সুচিকিৎসা করাতে যখন তিনি দিশেহারা, তখন ডিসি তাকে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মোঃ আলাউদ্দিন তার স্ত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের সংকটে পড়লে জেলা প্রশাসক তাকে নিরাশ করেননি। তাৎক্ষণিক অর্থ সহায়তায় কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন এই কর্মচারী।
রাঙ্গুনিয়ার কৃষক সন্তান নাভিদ আনজুমের উচ্চশিক্ষার পথে দারিদ্র্য যখন বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন জেলা প্রশাসক তার শিক্ষার খরচ মেটাতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। নাভিদ বলেন, “স্যার মানুষের কথা ধৈর্য ধরে শোনেন, এটাই তার বড় গুণ।”
এদিনের শুনানিতে মোট ৮ জন অসুস্থ নাগরিক এবং একজন শিক্ষার্থীকে সরাসরি আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। এছাড়া ৫ জন দুস্থ নারীকে নগদ অর্থের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী (চাল, ডাল, তেল, চিনি ও মশলা) প্রদান করা হয়। আকবরশাহ ও ডবলমুরিং এলাকা থেকে আসা অসহায় নাগরিকরাও তাদের চিকিৎসার জন্য ডিসির পক্ষ থেকে জরুরি সহায়তা লাভ করেন।
কেবল আর্থিক সহায়তাই নয়, বিভিন্ন অভিযোগ ও আইনি সমস্যার কথা শুনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন জাহিদুল ইসলাম মিঞা। প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
“চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের এই গণশুনানি এখন কেবল প্রশাসনিক কর্মসূচি নয়, বরং অসহায় মানুষের কাছে এটি হয়ে উঠেছে আশার আলো।বিপদের সময় এমন আন্তরিক সাড়া পেয়ে সেবাপ্রত্যাশীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, সহমর্মিতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে জাহিদুল ইসলাম মিঞা চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে ‘ভরসার নাম’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।


মন্তব্য