সোহান মিয়া, আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক দুই যুবককে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা পুলিশের এক কর্মকর্তার সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৩০ জুলাই) রাত প্রায় ৯টার দিকে উপজেলার রামচন্দ্রী এলাকায় হাজী ইজ্জত আলীর বাড়ির সামনের পাকা সড়ক থেকে স্থানীয় লোকজন মামুন (৩০) ও সানিকুল (১৯) নামে দুই যুবককে আটক করেন। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।খবর পেয়ে গোপালদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই গোলাম মোস্তফা ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক দুই যুবককে পুলিশের হেফাজতে নেন। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আড়াইহাজার থানায় মামলা দায়ের করা হয়।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, জব্দ করা মোটরসাইকেলটি একই রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, আটক মামুন ও সানিকুল দীর্ঘদিন ধরে আড়াইহাজার থানার সিনিয়র এসআই জহিরুল ইসলামের সোর্স হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁদের মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে হয়রানি, মাদক মামলায় ফাঁসানো এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিনিয়র এসআই জহিরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি আটক ব্যক্তিরা সত্যিই পুলিশের সোর্স হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁদের কাছে মাদক কীভাবে এলো এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা হবে কি না।স্থানীয় যুবদল নেতা মফিজুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের সোর্সদের মাধ্যমে অনেক সময় নিরীহ মানুষকে মাদক মামলায় জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।পাশাপাশি তারাই মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে বলেও আমরা জানতে পেরেছি।তিনি আরও বলেন, “গত তিন মাস ধরে আমরা এলাকায় মাদকবিরোধী নজরদারি চালিয়ে আসছি। ফলে এলাকায় মাদক প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আটক দুই ব্যক্তি পুলিশের সহযোগী পরিচয়ে এলাকায় মাদক নিয়ে প্রবেশ করেছিল বলে স্থানীয়দের ধারণা। আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সবজেল হোসেন বলেন, আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য