নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম।। পবিত্র ঈদুল আজহার মূল চেতনা শুধু পশুবলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের ভেতরের লোভ, লালসা ও হিংসাকেও কোরবানি দিতে হবে। একটি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাতপূর্ব শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে বলেন,আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করতে চাই, যেখানে বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। কোরবানির শিক্ষা কাজে লাগিয়ে আমাদের মনস্তাত্ত্বিক সংকীর্ণতা ও কলুষতা দূর করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি বাসযোগ্য সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলাই হোক আমাদের আজকের প্রত্যয়।ঈদ আনন্দকে সর্বজনীন করতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নেওয়া ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক। তিনি জানান, ধনী-দরিদ্র ও মধ্যবিত্তসহ সব শ্রেণির মানুষ যাতে সমভাবে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য “দাম কমবে পণ্যের, উৎসব হবে সকলের” শীর্ষক একটি বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।এই জনবান্ধব উদ্যোগ সফল করতে চট্টগ্রামের পাইকারি, খুচরা এবং বিভিন্ন চেইনশপের ব্যবসায়ীরা যে আন্তরিক সহযোগিতা করেছেন, সেজন্য তাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডিসি বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেক ইতিবাচক সিদ্ধান্তের সূচনা এই চট্টগ্রাম থেকেই হয় এবং এবারও ব্যবসায়ীরা একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনা ও কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটির উদ্যোগে এবার জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম মাঠে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে ইমামতি করেন নগরীর ধনিয়ালাপাড়াস্থ বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ ড. সাইয়েদ মুহাম্মদ আবু নোমান।প্রধান ঈদ জামাতে মুসল্লিদের উদ্দেশে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন।গুরুত্বপূর্ণ এই ঈদ জামাতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দ মাহবুবুল হক ও পাঠান মো. সাইদুজ্জামানসহ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী, শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার সহস্রাধিক সাধারণ মুসল্লি অংশ নেন।নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয়। মোনাজাতের পর বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ উপস্থিত সর্বস্তরের জনতা একে অপরের সাথে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন


মন্তব্য