সৌদি আরব ফুটবল ফেডারেশনের (এসএএফএফ) আসন্ন সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির ক্রীড়াঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নির্বাচন কমিটি সম্প্রতি বদর আল-রুজাইজার নেতৃত্বাধীন প্যানেলকে একমাত্র বৈধ প্রার্থী হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য পাঁচটি প্যানেল নির্বাচনী দৌড় থেকে ছিটকে পড়েছে। বাতিল হওয়া প্যানেলগুলোর নেতৃত্বে ছিলেন খালিদ আল-গামদি, ফাহাদ আল-ঘাফিলি, হাতেম খাইমি, আহমেদ আল-ওয়াদাই এবং শাকের আল-ওসাইমি।
নির্বাচন কমিটি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় ক্রীড়া ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার অভাব, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণে ব্যর্থতা এবং সাধারণ পরিষদের প্রতিনিধি-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা না মানার কারণে এই প্যানেলগুলোর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ফাহাদ আল-ঘাফিলি কমিটির সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়ে আইনি লড়াইয়ে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রায় পাঁচ বছর সৌদি রোশন লিগের একটি ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সেই অভিজ্ঞতা সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নথিবদ্ধ ছিল না, যা তার প্রার্থিতা বাতিলের অন্যতম কারণ।
এদিকে সৌদি দৈনিক ‘আরিয়াদিয়া’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, খালিদ আল-গামদির নেতৃত্বাধীন প্যানেলসহ অন্তত দুটি প্যানেল বদর আল-রুজাইজার প্রার্থিতার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাদ পড়া অন্যান্য প্যানেলগুলোও এই আপিল প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মূল অভিযোগ, যে নীতি ও শর্তের ভিত্তিতে তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, অনুমোদিত প্যানেলের ক্ষেত্রে সেই একই মানদণ্ড নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। এই সময়ের মধ্যে মোট সাতটি প্যানেল তাদের প্রার্থিতা জমা দিয়েছিল, যার মধ্যে তুর্কি আল-দাবান পরবর্তীতে নাম প্রত্যাহার করে নেন। এরপর ২ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত নির্বাচন কমিটি প্রতিটি প্যানেলের কাগজপত্র ও নিয়মকানুন যাচাই-বাছাই শেষে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়। এখন বাদ পড়া প্যানেলগুলোর সম্ভাব্য আপিল এবং নির্বাচন কমিটির পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই সৌদি ফুটবলের এই নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
সূত্র: যুগান্তর


মন্তব্য