- আব্দুল্লাহ আল মারুফ, নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তীব্র শিক্ষক ও জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। ১৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে বর্তমানে ১৮৭টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদে ৮৮টি এবং সহকারী শিক্ষক পদের ৯৯টি শূন্য থাকায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ১৬০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ১৬০টি হলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৭২ জন; অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি বা ৮৮টি পদই শূন্য। এর মধ্যে ৫৩টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কাজ চালানো হলেও স্থায়ী নেতৃত্বের অভাবে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষকের ৯৭৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৮৭৪ জন এবং শূন্য রয়েছে ৯৯টি পদ। সবমিলিয়ে ১ হাজার ১৩৩টি শিক্ষক পদের প্রায় ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ পদই ফাঁকা রয়েছে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর (৩৩,২৪৬ জন) বিপরীতে এই শিক্ষক ঘাটতির কারণে কর্মরত শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হচ্ছে।এদিকে শুধু বিদ্যালয় পর্যায়েই নয়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকেও জনবল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। অনুমোদিত সাতজন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন, ফলে ছয়টি পদই শূন্য। তাছাড়া দুটি অফিস সহকারীর পদও শূন্য রয়েছে। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ খালি থাকায় নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন, একাডেমিক তদারকি এবং সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখতে অবিলম্বে এসব শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা জরুরি।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুঃ আবদুল হামিম জানান, শিক্ষক ও শিক্ষা অফিসের জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে। শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা গেলে বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত গতি আসবে।চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফিরোজ আহমদ বলেন,বাঁশখালী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষা অফিসে কিছু শূন্যপদ থাকার বিষয়টি আমাদের দপ্তরের জানা রয়েছে। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বিধি মোতাবেক এসব শূন্যপদ পূরণের জন্য আমরা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন পাঠাচ্ছি এবং প্রস্তাবনা দিয়েছি। শিক্ষক ও প্রশাসনিক জনবল ঘাটতির কারণে পাঠদান ও তদারকিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বটে, তবে খুব শীঘ্রই বদলি, পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই শূন্যপদগুলো পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী। পদগুলো পূরণ হলে বাঁশখালীর প্রাথমিক শিক্ষার মান আরও বেশি গতিশীল ও সুসংহত হবে।


মন্তব্য