- নিজস্ব প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম :
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে রেজাউল হাছান বিজয় হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ ব্যাপারীরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা দক্ষিণ ব্যাপারীরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি দক্ষিণ ব্যাপারীরহাট মোমিনপুর আবুল হোসেন দাখিল মাদ্রাসা পর্যন্ত গিয়ে পুনরায় কলেজ গেটে এসে শেষ হয়। এ সময় তারা বিজয় হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রেজাউল হাছান বিজয় দক্ষিণ ব্যাপারীরহাট এলাকার রফিকুল ইসলাম ও রাশিদা বেগম দম্পতির তৃতীয় সন্তান। তিনি দক্ষিণ ব্যাপারীরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। মানববন্ধনে বিজয়ের বড় ভাই সাব্বির মাহমুদ অভিযোগ করেন, বিজয়ের মরদেহ উদ্ধারের পর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে কুড়িগ্রাম আদালতে মামলা করা হলে আদালত মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সাব্বির মাহমুদের দাবি, পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে দক্ষিণ ব্যাপারীরহাট বাজারে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করতে দেখে দুপুর ২টার দিকে নাগেশ্বরী থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে। এ ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা মরদেহের বিভিন্ন অঙ্গের ছবি দেখে তারা বিজয়ের সঙ্গে মিল পেয়েছেন। মরদেহের পাশেই অন্য একজনের পাঞ্জাবি ও লুঙ্গিও পাওয়া গেছে বলে দাবি পরিবারের। এরপরও মরদেহটি অজ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বিজয়ের ভাই সাব্বির মাহমুদ আরও বলেন, বিজয়ের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম পুলিশ উদ্ধার করেছে। ওই মোবাইল ফোন ও সিম দক্ষিণ ব্যাপারীরহাট এলাকার খলিলুর রহমান (মনা)-এর নাতি আল মাহিয়াত ইকবাল মুন মাহির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। মানববন্ধনে বিজয়ের বাবা-মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে সন্তানের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানান। কর্মসূচিতে হাসনাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আলহাজ বেলাল হোসেন ব্যাপারী, ইউপি সদস্য হামিদুল ইসলাম, ইউপি সদস্য শাহাজালাল ব্যাপারী, আলম ব্যাপারী, সাইবার দলের উপজেলা সহসভাপতি আলতাফ হোসেনসহ নিহতের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শতাধিক এলাকাবাসী এবং দক্ষিণ ব্যাপারীরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে নাগেশ্বরী উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সিদলিয়ার ডোবা থেকে রেজাউল হাছান বিজয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।


মন্তব্য