১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
এনসিপির ‘চমক’ ম্লান, চট্টগ্রামে এনসিপি’র যোগদান অনুষ্ঠানে ়আসেননি মনজুর দ্বিতীয় দিন শেষে চাপে বাংলাদেশ মিরপুর টেস্ উখিয়া সীমান্তে র‍্যাবের বড় অভিযান: বাঁশঝাড় থেকে ২.৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার সোনাদিয়ায় প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান: ২০টি রিসোর্ট গুঁড়িয়ে জমি পুনরুদ্ধার। “মা দিবস” পাহাড় থেকে আনা ১৫০ রাউন্ড গুলিসহ চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ২ গাজীপুরে পাঁচ খুন: স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করে স্বজনকে ফোন ফুরকানের চট্টগ্রামে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩ ছাতকে এক রাতেই শেষ হুশিয়ার আলীর স্বপ্ন—বিষে প্রাণ গেল ১৫০০ মোরগ, ক্ষতি ছাড়াল ৩.৫ লাক টাকার মত। সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম মহিলা ক্লাবের উদ্যোগে মানবিক সহায়তা প্রদান
আন্তর্জাতিক:
লেবাননে ইসরাইলি হামলা ৩ স্বাস্থ্যকর্মীসহ নিহত ৫ জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে লড়াইয়ে ৪ শীর্ষ প্রার্থী মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিপাকে ভারতের বিমান খাত: জ্বালানির আকাশচুম্বী দামে বন্ধ হওয়ার শঙ্কা দেশের সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা, জোরদার করা হয়েছে নজরদারি লাহোর থেকে যাতি উমরা স্মৃতির অলিন্দে পাঞ্জাবের আতিথ্য তুরস্কের কাছে ১০০ কোটি ডলার ও সুন্দরী স্ত্রী চাইলেন উগান্ডার সেনাপ্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কোনো সীমাবদ্ধতা মানবে না ইরান।। ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় আহত ইরানি নেতা কামাল খারাজির মৃত্যু নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা ছিল বলে অভিযোগ ইরানের ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ না খুললে নামবে নরক
     
             

রাজশাহীর পদ্মায় ‘বিলুপ্ত’ কুমির!

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

সোহেল রানা,প্রতিনিধি >>> রাজশাহীর পদ্মা নদীর চরে পাখির ছবি তুলতে বেরিয়েছিলেন পাখিপ্রেমী দম্পতি ইমরুল কায়েস ও উম্মে খাদিজা ইভা। কিন্তু পাখির বদলে তাঁরা যা দেখলেন, তা রীতিমতো বিস্ময়কর-একটি জীবন্ত মিঠাপানির কুমির। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএন বাংলাদেশ ২০১৫ সালে এই প্রজাতিটিকে দেশে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছিল।ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর ষাটবিঘা চরে। স্থানীয় এক যুবক প্রথম কুমিরটি দেখতে পান, পরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে বন বিভাগ ও প্রকৃতি গবেষকদের মধ্যে।প্রথম দেখা মেলে গরু চরাতে যাওয়া রাজুর সেদিন দুপুরে ষাটবিঘা চরের রাজু আহাম্মেদ গরু চরাতে গিয়ে প্রথম কুমিরটি দেখতে পান। রাজু বলেন, “পানি থেকে তিন–চার হাত দূরে কুমিরটা চরে উঠে এসেছিল। আমি তখন গান শুনছিলাম। গান বন্ধ করে ছবি তুলতে গেলেই কুমিরটা পানিতে নেমে যায়।” পরে তিনি বন বিভাগের কর্মী সোহেল রানাকে খবর দেন।পাখির খোঁজে গিয়ে কুমিরের সন্ধান বন বিভাগ থেকে ফোন পেয়ে নগরের কাজীহাটা এলাকার আলোকচিত্রী দম্পতি ইমরুল কায়েস ও উম্মে খাদিজা ইভা ঘটনাস্থলে যান। মূলত তাঁরা পদ্মার চরে পাখির ছবি তুলতে বের হয়েছিলেন। বিশেষ করে লাল মুনিয়ার ছবি তুলতে। কিন্তু ভাগ্যের লিখন যেন অন্য কিছু ছিল।খাদিজা বলেন, “রোদের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। ঘাটের দোকানে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, তখনই বন বিভাগের ফোনটা এলো। মুহূর্তেই ঘুম কেটে গেল।”ড্রোনে ধরা পড়ে কুমির রাজশাহীর ভারতের সীমান্তঘেঁষা চর এলাকায় গিয়ে তাঁরা প্রথমে কিছুই দেখতে পাননি। হতাশ হয়ে বসে পড়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর ইমরুল কায়েস ড্রোন উড়িয়ে খোঁজ শুরু করেন। হঠাৎই স্ক্রিনে দেখা যায় পানিতে বিশাল এক কুমিরের চলাফেরা।“কায়েস হঠাৎ চিৎকার করে উঠল-‘পাগলি, কুমির!’ আমি দৌড়ে গিয়ে দেখি সত্যিই জীবন্ত কুমির। জীবনে প্রথমবার প্রকৃতিতে সামনাসামনি কুমির দেখলাম,” বলেন উম্মে খাদিজা।তাঁরা কুমিরটির ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন, যা পরবর্তীতে বন বিভাগে পাঠানো হয়।বিশেষজ্ঞদের মতামত আইইউসিএন বাংলাদেশের মুখ্য গবেষক এ বি এম সারোয়ার আলম (সীমান্ত দীপু) জানান, “২০১৫ সালে বাংলাদেশে মিঠাপানির কুমিরকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। তবে এর আগে পাবনায় ও অন্য দুটি স্থানে দেখা গিয়েছিল। সেগুলোকে বর্তমানে সুন্দরবনের করমজল সেন্টারে রাখা হয়েছে।”তিনি আরও বলেন, “রাজশাহীতে পাওয়া কুমিরটি সম্ভবত ভারতের চাম্বুল নদী থেকে এসেছে। এটি স্থানীয়ভাবে জন্ম নেওয়া কুমির হওয়ার সম্ভাবনা কম।”তিন প্রজাতির কুমির বাংলাদেশে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে তিন ধরনের কুমির রয়েছে-১. লোনাপানির কুমির, যা সুন্দরবনে দেখা যায়।২. মিঠাপানির কুমির, যা দেশে বিলুপ্ত বলে ঘোষণা করা হয়েছে।৩. ঘড়িয়াল, যা পদ্মা-যমুনা নদীতে বিচরণ করে।স্থানীয়দের কৌতূহল ও সংরক্ষণ উদ্বেগ স্থানীয়রা জানান, এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখেননি তাঁরা। বন বিভাগও ঘটনাস্থল পরিদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রকৃতি সংরক্ষণকর্মীরা বলছেন, রাজশাহীর পদ্মায় কুমিরের উপস্থিতি বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের জন্য এক বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page