আব্দুল্লাহ্ আল মারুফ,নিজস্ব প্রতিবেদক >>> দেশের বাজারে প্রায়ই তিন মাস পর চাউলের দাম কমলো, চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে চাউলের দাম কমতে শুরু করেছে। তবে এর প্রভাব খুচরা বাজারে এখনও পড়েনি, কাঁচাবাজারে স্বস্তিও নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও সবজির দাম অনেক বেশি। মাছ-মাংসের দাম অপরিবর্তিত, মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে।শনিবার (৩০ আগস্ট)সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার ও দুই নম্বর গেটের কর্ণফুলী কমপ্লেক্স বাজারে সরজমিনে ঘুরে দেখা মিলে, আলু ছাড়া প্রায় সবজিই বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকারও বেশি।কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি এখনো দেড়শ টাকার উপরে। স্বস্তি নাই মাছ-মুরগির বাজারেও। রুই-কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪৫০ টাকা করে। চিংড়ি ৭০০ হতে ১২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।সমুদ্রের মাছ দাম আরও চড়া।ইলিশ মাছের মৌসুম থাকলেও দাম কোনভাবে কমছে না। ঠিক আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি করছে মাছ ব্যবসায়ীরা। ১ কেজির একটু বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে আড়াই হাজার থেকে ৩০০০ টাকা কেজি, ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২৫০০ টাকা, ছোট জাটকা ১২০০ হতে ১৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।দুঃখের বিষয় হল,এখনো ইলিশের দাম নিম্ন ও মধ্যবিত্তের পাতে পড়ার অবস্থায় যেন এখনো ফেরেনি।মহানগরের বিভিন্ন মুরগির দোখানে ঘুরে দেখা যায়,মুরগির দাম সেই যে আশুরায় বেড়েছে আর কমার কোনো লক্ষণ দেখাই যাচ্ছে না।সাদা ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬০, সোনালি ২৮০-৩০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। ডিমের দাম ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় পৌঁছে স্থির হয়ে আছে।কিন্তু স্বস্তি নেই পেঁয়াজেও। তবে আমদানির খবরে কিছুটা কমলেও এখন ফের খোলাবাজারে পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা।চট্টগ্রাম মহানগর’র ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী কমপ্লেক্স কাঁচাবাজারে বাজার করতে ঢুকে বড় নিঃশ্বাস ফেললেন খুদে ব্যবসায়ী জিয়াবুল হক । তিনি আফসোস নিয়ে জানান। সবকিছুরই দাম বাড়তি। এটা-ওটা শুধু দরদাম করি, দাম শুনে কেনার সাহস যেন হারিয়ে ফেলি তবে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ালে হয়তো কিছুটা স্বস্তি পাবে ব্যবসায়ীরা।বহদ্দারহাট বাজারের চাল ব্যবসায়ী,আব্দুল আলিম(আব্দুল্লাহ)বলেন,দীর্ঘদিন ধরে অস্থির ছিল চালের দাম। কিছুটা ভারতীয় চালের আমদানি বাড়ার কারণে কমছে সব ধরনের চালের দাম। কয়েক দিনের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দাম বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) কমেছে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার মত । অর্থাৎ প্রতি কেজিতে ছয় টাকা হারে কমেছে দাম।অন্যান্য ব্যবসায়ীরা জানান,বর্তমান সরকার চাল আমদানির অনুমতি দেওয়ায় কারণে দেশের স্থলবন্দরগুলো দিয়ে প্রচুর পরিমাণ ভারতীয় চাউল প্রবেশ করতেছে। যার কারনে দাম কিছুটা কমেছে। পাইকারি বাজারে কমলেও এখনো খুচরা বাজারে সেটির প্রভাব তেমন একটা দেখা মিলেনি।চাল ব্যবসায়ীদের জোর দাবি ,চট্টগ্রামের বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর অতিরিক্ত মজুতদারি বাজারে সংকট তৈরি করতেছে । এ এই বিষয়ে সরকারের তেমন কোন নজরদারি নেই বললেই চলে । বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ অধিকাংশ ব্যবসায়ীদের।বাজার করতে আসা ক্রেতারা জানান, আকাশছোঁয়া দামের কারণই এখন সবজির দাম জিজ্ঞেস করতেও মনে ভয় জাগে। এর পরও বাজার নিয়ন্ত্রণে কারো কোনো উদ্যোগ নেই। বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারে ক্রেতা আবদুল কাদের বলেন, মাছ-মাংসের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষ ডিম ও সবজির ওপর নির্ভর করে সময় পার করতেছে। তবে বাজারে মাছ-মাংস, ডিম ও সবজি সবই তো নাগালের বাহিরে, আমরা এখন কোথায় যাব? বর্তমান এৃন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ খুব কষ্টে আছে পরিবার পরিজন নিয়ে দিনযাপন করতেছে । দ্রুত বাজার তদারকিতে সরকারের নজর দেওয়া উচিত বলেও মনে করেন এ ক্রেতা।’চট্টগ্রাম মহানগরের চাউলের আড়ত আড়ত চাক্তাইয়ের চালপট্টি এবং পাহাড়তলীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত এক সপ্তাহর ব্যবধানে বাজারে নাজিরশাইল সিদ্ধ, জিরাশাইল সিদ্ধ, মিনিকেট আতপ, মিনিকেট আতপ, কাটারিভোগ আতপ চালের দাম বস্তাপ্রতি ৩০০ টাকা পর্যন্ত বাজার মূল্য কমেছে। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে জিরাশাইল সিদ্ধ ৩ হাজার ৬৫০ টাকা, মিনিকেট সিদ্ধ ২ হাজার ৮০০ টাকায়, পাইজাম সিদ্ধ ২ হাজার ৮৫০ টাকায়, কাটারিভোগ সিদ্ধ (২৫ কেজি বস্তা) ১৮ শত টাকা, কাটারিভোগ আতপ ৩ হাজার ৮০০ টাকায়, মিনিকেট আতপ ৩ হাজার টাকা, নাজিরশাইল সিদ্ধ (২৫ কেজি বস্তা) ১ হাজার ৮৫০ টাকাশয়, দেশি নাজিরশাইল সিদ্ধ ২ হাজার টাকা, স্বর্ণা সিদ্ধ ২ হাজার ৭৫০ টাকা, বেতী আতপ ২ হাজার ৭০০ টাকা এবং মোটা সিদ্ধ ২ হাজার ৪৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।











মন্তব্য