মিজানুর রহমান বিশেষ প্রতিনিধি, ফরিদপুর >>> ফরিদপুর: চরভদ্রাসন উপজেলার ৪নং গাজীরটেক ইউনিয়নের খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলীর দেওয়া প্রতিবাদলিপিকে বিভ্রান্তিকর ও তথ্যভিত্তিক নয় বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র।সরকারি নথিপত্র পর্যালোচনা করলে প্রকাশিত সংবাদের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে “চরভদ্রাসনে খাল খনন প্রকল্পে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী শ্রমিকের তালিকায়” এবং “খাল খনন প্রকল্পে ভূতুড়ে শ্রমিক দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী এক প্রতিবাদলিপিতে এসব সংবাদকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকাশিত সংবাদ কোনো মনগড়া তথ্যের ভিত্তিতে নয়। সরকারি প্রকল্পের মাস্টাররোল, চেক ইস্যুর তথ্য, শ্রমিক তালিকা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই-বাছাই করেই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে প্রতিবাদলিপিতে সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা মনে করছেন।প্রতিবাদলিপিতে চেয়ারম্যান দাবি করেন, তার কোনো ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) নেই এবং রওশন আলী একজন সাধারণ শ্রমিক। কিন্তু অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি নথিতেই রওশন আলীর নামে প্রকল্প থেকে ২০ হাজার ৫০০ টাকার চেক ইস্যুর তথ্য রয়েছে। তিনি প্রকল্পে প্রকৃতপক্ষে কতদিন শ্রম দিয়েছেন এবং বাস্তবে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন কি না—তা কেবল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে তারা দাবি করেন।এ ছাড়া প্রকল্পে তালিকাভুক্ত ১৭৮ জন শ্রমিকের মধ্যে কতজন নিয়মিত কাজ করেছেন, উপস্থিতি তালিকা, মজুরি উত্তোলনের রেকর্ড এবং প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি সরকারি নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখারও দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি যদি সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে বাস্তবায়িত হয়ে থাকে, তবে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তই সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্ত করবে। অন্যদিকে অনিয়মের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।প্রতিবাদলিপিতে কয়েকজন সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ আনা হলেও এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। বিপরীতে, প্রকাশিত সংবাদে সরকারি নথিপত্রের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।সুশাসন ও জবাবদিহিতার স্বার্থে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গণমাধ্যমের অন্যতম দায়িত্ব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তাদের মতে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করাই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পন্থা।এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং জনগণের সামনে স্পষ্ট হবে—প্রকাশিত সংবাদ নাকি প্রতিবাদলিপি, কোনটি প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে।


মন্তব্য