আব্দুল্লাহ আল মারুফ চট্টগ্রাম >>> পরিচ্ছন্ন শহর, সবুজ নগর; প্রফুল্ল মন, সুস্থ জীবন-এই স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রামকে একটি সুন্দর ও নান্দনিক জেলায় রূপান্তর করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চট্টগ্রামজুড়ে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল থেকে জেলার ৩ হাজার ৩০০-এর অধিক সরকারি ভবনের ছাদ ও আঙিনায় একযোগে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে।সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে দিনব্যাপী এই কর্মসূচির সূচনা হয়। র্যালিটি সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে কাজির দেউড়ি, চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাব ও রেডিসন ব্লু ঘুরে পুনরায় সার্কিট হাউজে এসে শেষ হয়। পরে কোর্ট হিলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আঙিনা থেকে শুরু করে আইনজীবী ভবন এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদ পরিষ্কারের মধ্য দিয়ে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সার্বিক নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোঃ মনিরুজ্জামান, সিএমপি কমিশনার হাসান মোঃ শওকত আলী এবং পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম (বিপিএম)। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।মাসব্যাপী বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা অভিযানের বিস্তৃতি তুলে ধরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, জেলার মোট ১৩১টি দপ্তরের ৪১৬টি ভবন, ৮টি আবাসিক এলাকার ১০৮টি ভবন, ৪০৬টি উপজেলা পর্যায়ের ভবন এবং ২ হাজার ২৯৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। মাসব্যাপী চলা এই অভিযানে প্রতিদিনের বর্জ্য অপসারণের হিসাব ও ভবনের আগের ও পরের অবস্থা নথিবদ্ধ করা হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী তদারকি টিম কাজ করছে।জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশকে একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সুস্থ শরীর ও মন প্রয়োজন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সুস্থ চিন্তা সম্ভব নয়। তাই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন সমাজ উপহার দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, জনসাধারণের ওপর জোরপূর্বক চাপ সৃষ্টি না করে পরিচ্ছন্নতাকে একটি স্থায়ী অভ্যাসে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য। বিশ্বমঞ্চে নতুন বাংলাদেশকে একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে চাই।”অভিযান সফল করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাসব্যাপী কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে।


মন্তব্য