মোঃ সোহেল রানা,বান্দরবান প্রতিনিধি >>> সিরাক-বাংলাদেশের ‘ইয়ুথ ক্যাটালিস্ট’ প্রকল্পের অধীনে জলবায়ু পরিবর্তন এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য (SRHR) বিষয়ক সচেতনতা বাড়াতে বান্দরবানে অনুষ্ঠিত হলো জেলা পর্যায়ের এক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।সোমবার (৩ নভেম্বর) বান্দরবান শহরের হলিডে ইন রিসোর্টে দিনব্যাপী এই আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উদ্যমী তরুণ-তরুণীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. লেলিন তালুকদার। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিরাক-বাংলাদেশের অ্যাডভোকেসি স্পেশালিস্ট মিজানুর রহমান।প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সিভিল সার্জন ডা. শাহীন হোসাইন চৌধুরী।বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সিরাক-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত এবং বান্দরবান জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম।প্রতিযোগিতার সেশনভিত্তিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেন সিরাক-বাংলাদেশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক লুতফা পাঠান এবং ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিনের ডেপুটি ডিরেক্টর মো. ইমরান হোসেন।ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ ও সুইডিশ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সিডা-এর আর্থিক সহায়তায় ‘ইয়ুথ ক্যাটালিস্ট’ প্রকল্পটি বর্তমানে দেশের বিভাগীয় শহরগুলো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা জেলাগুলোতে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে।বান্দরবান বাংলাদেশের অন্যতম জলবায়ু-সংবেদনশীল পার্বত্য জেলা। এখানে পাহাড়ধস, বন্যা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো, বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই কঠিন বাস্তবতাকে সামনে রেখে, তরুণদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার প্রধান লক্ষ্য।এই প্রতিযোগিতায় ১৪ থেকে ২০ বছর বয়সী ৩০ জন তরুণ শিল্পী অংশ নেন। তাঁদের চিত্রকর্মে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বন্যা, পাহাড়ধস, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা, মাতৃস্বাস্থ্য, মাসিক স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়।প্রত্যেক শিল্পী তাঁদের চিত্রকর্মের সঙ্গে ৫০ থেকে ১০০ শব্দের একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা যুক্ত করেন, যেখানে তাঁদের নিজস্ব চিন্তা, অভিজ্ঞতা এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের আহ্বান তুলে ধরা হয়।পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর (DGFP), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS) এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের স্থানীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি বিচারক প্যানেল ছিল। তাঁরা সৃজনশীলতা, প্রাসঙ্গিকতা এবং বার্তার শক্তির ওপর ভিত্তি করে সেরা চিত্রগুলো নির্বাচন করেন। স্কুল ও কলেজ, উভয় বিভাগ থেকে শীর্ষ ১০ জন বিজয়ীকে পুরস্কৃত করা হয়।আয়োজকেরা জানান, এই অভিনব উদ্যোগের মাধ্যমে ‘ইয়ুথ ক্যাটালিস্ট’ প্রকল্পটি তরুণ প্রজন্মকে সামাজিক ও পরিবেশগত পরিবর্তনের অগ্রদূত হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে। তরুণদের সৃজনশীলতা ও সচেতনতাকে কাজে লাগিয়ে একটি সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায্য ভবিষ্যৎ নির্মাণ করাই এই প্রকল্পের চূড়ান্ত লক্ষ্য।











মন্তব্য