“মুকুল রাজ “
চৌদ্দ বছর আগে এক মাঠে দৌড়েছিলাম আমরা
বৃষ্টির পরে কাদা মাখা মাটিতে ছেলেমানুষি হাঁসির গন্ধ ছিল।
ছিল বলেই তো আজও ঘ্রাণ পাই সেই দিনগুলোর
যেমন ঘ্রাণ পাই শুকনো পাতার নিচে চাপা দেওয়া চিঠির।
তুমি ছিলে,
হয়তো ঠিক পাশে না,
তবুও দূরের সেই হাসিটা গাঁথা ছিল আমার দৃষ্টির বৃত্তে।
স্কুলবেলার মাঠ, হুইসেলের শব্দ,
আর ফাঁকা ফাঁকা বিকেল,
সব একসাথে বেঁধে রাখত আমাদের শৈশব।
তারপর হারিয়ে গেছো চৌদ্দটা বছর,
না কোনো বিদায়, না কোনো চিহ্ন রেখে,
হয়তো সময়ই এমন নিঃশব্দ চোর,
সব কেড়ে নেয়, কিছুই বলে না।
কিন্তু হঠাৎ…
এক আড্ডায়, বইয়ের পাতায়, কফির কাপে ভাসতে ভাসতে
আবার
এক ঝলক চেনা চোখ,
একটু থমকে থাকা শব্দ
“তুমি…?”
তারপর স্মৃতি ফিরে এল দৌড়ে
যেন শব্দেরা আগে চেনে স্মৃতিকে,
তাদের হাত ধরে ফিরে এল আমরা।
তুমি এখন কবি, ভাবনার মানুষ,
সাহিত্যের আলোয় রাঙা চোখে তাকাও,
আমি দেখি,
তুমি শুধু আগের ‘তুমি’ নও,
তুমি এখন এক গল্পের উৎস,
এক কবিতার অনুপ্রেরণা।
আমার প্রশ্ন শুধু একটাই
তোমার কি আপত্তি আছে?
যদি আমি তোমায় নিয়ে লিখি?
তোমার হাঁটা, কথা, চুপ করে থাকা,
সবকিছু দিয়ে গড়ে তুলি কয়েক হাজার পৃষ্ঠা?
যেখানে তুমি থাকবে,
আমার প্রতিটি লাইনের ভিতরে,
হৃদয়ের গভীরে।











মন্তব্য