মোঃ দিদারুল ইসলাম,চট্টগ্রাম >>> চট্টগ্রাম কাস্টমসে দ্বিতীয় দফায় অনলাইন নিলামে (ই-অকশন) তোলা হয়েছে ১০ হাজার ২৫৮ কার্টনে থাকা ৪৭ হাজার ৫০০ কেজি (সাড়ে ৪৭ টন) বিভিন্ন ধরনের আমদানি করা খেজুর। এবার এসব খেজুরের সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৬৯ টাকা।এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর প্রথম দফায় এসব খেজুর অনলাইন নিলামে তোলা হলেও কাঙ্ক্ষিত দরদাতা পাওয়া যায়নি। ফলে সংরক্ষিত মূল্য কিছুটা কমিয়ে দ্বিতীয় দফায় পুনরায় নিলামের সিদ্ধান্ত নেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এর আগেও দুই দফায় প্রকাশ্যে নিলামে তোলা হলেও প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যায়নি।চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আবদুল আউয়াল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) থেকে অনলাইনে দরপত্র গ্রহণ শুরু হয়েছে। দরপত্র জমা দেওয়া যাবে আগামী ১১ জানুয়ারি দুপুর ২টা পর্যন্ত। এছাড়া বিডারদের জন্য পণ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ১ জানুয়ারি থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।কাস্টমস হাউস সূত্র জানায়, নগরীর ফিরিঙ্গি বাজারের ব্রিজঘাট রোডের সালাম বিল্ডিংয়ের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসএসএ করপোরেশন এসব খেজুর আমদানি করে। এর মধ্যে আজওয়া ও মেজদুল খেজুর রয়েছে ১৫ হাজার কেজি এবং সুগাই, সাফাউই, মাসরুক, সুকারি ও লুবনা খেজুর রয়েছে ৩২ হাজার ৫০০ কেজি।প্রথম দফায় অনলাইন নিলামে এসব খেজুরের সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ কোটি ৪৮ লাখ ৪৮ হাজার ১৭২ টাকা। তবে ভিত্তি মূল্যের ৬০ শতাংশ দর না পড়ায় নিলাম বাতিল করা হয়। দ্বিতীয় দফায় মূল্য কমিয়ে পুনরায় নিলামের আয়োজন করা হয়েছে।জানা গেছে, পচনশীল পণ্য দ্রুত নিলামের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্থায়ী আদেশ জারি করলেও কাস্টমসের প্রশাসনিক জটিলতায় অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে নিলাম সম্ভব হচ্ছে না। এতে অতীতে বহু খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়েছে, যার ফলে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি পণ্য ধ্বংসে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।এ বিষয়ে আবদুল আউয়াল বলেন, “প্রথম অনলাইন নিলামে তিনটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল। কিন্তু কেউই ভিত্তি মূল্যের ৬০ শতাংশ দর দেয়নি। এ কারণে দ্বিতীয় দফায় নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”উল্লেখ্য, আমদানি করা পণ্য জাহাজ থেকে বন্দরের ইয়ার্ডে নামানোর ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারককে সরবরাহ নিতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস না হলে কাস্টমস নোটিশ দেয়। নোটিশের ১৫ দিনের মধ্যে পণ্য না নিলে তা নিলামে তোলার বিধান রয়েছে। এছাড়া মিথ্যা ঘোষণায় জব্দ করা পণ্যও নিলামে বিক্রি করা হয়। তবে ৪৫ দিনের মধ্যে নিলাম সম্পন্ন করার এই নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।











মন্তব্য