গাজীপুরের কালীগঞ্জে নৈশপ্রহরীর সংকটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উপজেলার মোট ১২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে ৮০টিতেই কোনো নৈশপ্রহরী নেই। গত মাসে আরও দুজন নৈশপ্রহরী চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ায় এই শূন্যতা আরও প্রকট হয়েছে। এই জনবল সংকটের মধ্যেই জাংগালিয়া ইউনিয়নের দেওতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বারান্দার পকেট গেট ও অফিস কক্ষের তালা ভাঙা। অফিস কক্ষের আলমিরা ও টেবিলের বিভিন্ন ড্রয়ার খোলা এবং ভেতরের কাগজপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নূসরাত জাহান জেনি জানান, সকালে বিদ্যালয়ে এসে গেটের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশের পর অফিস কক্ষের তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে জানালে অন্য শিক্ষকরা এসে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসরিন বলেন, চোরেরা অফিসে থাকা ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, স্পিকার, সততা স্টোরের নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে গেছে। শিশুদের হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত প্রজেক্টরও চুরি হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কারিমা জানান, চুরির খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ভিড় করলে ভাঙা তালা ও আসবাবপত্রে হাত না দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল, যাতে প্রয়োজনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করা যায়। তবে কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, ভাঙা তালাটিও সেখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, মাদকাসক্তদের কেউ এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, কালীগঞ্জে মোট ১২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৪৭টি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী আছেন। তিনি যোগ দেওয়ার পর পাঁচ মাসের মধ্যেই দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। তিনি মনে করেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরীর ব্যবস্থা করা অথবা শূন্য পদে লোক নিয়োগে বরাদ্দ দেওয়া হলে এ ধরনের চুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব। দেওতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চুরির ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, দেওতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন এখন এই নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ


মন্তব্য