স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় আশ্রয়ের দাবিতে শত শত অভিবাসী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। তারা দ্রুত তাদের আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট সরকারি সিদ্ধান্তের দাবি জানিয়েছেন। দুই সপ্তাহ আগে ব্যাপক সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনায় প্রায় ৭২ হাজার মানুষ এই ছোট ভূখণ্ডে প্রবেশ করে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও তাদের বেশিরভাগই স্বেচ্ছায় ফিরে গেছেন, তবুও এখনো প্রায় ৫ থেকে ৮ হাজার অভিবাসী সেখানে অবস্থান করছেন। রোববার সেউতার এল ট্রামপোলিন সৈকতে জড়ো হয়ে তারা স্পেনের পতাকা ও বিভিন্ন ব্যানার প্রদর্শন করেন এবং মরক্কোয় ফেরত না পাঠিয়ে আশ্রয়ের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।
বর্তমানে অনেক অভিবাসী সৈকত ও শহরের উপকণ্ঠে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও অস্থায়ী পরিবেশে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয় প্রশাসনের সীমিত সামর্থ্যের কারণে খাদ্য, আশ্রয় ও জরুরি চিকিৎসাসেবার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা অনিয়মিতভাবে সেউতায় প্রবেশ করেছেন, তাদের সাধারণভাবে সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে না। এমনকি মূল ভূখণ্ড স্পেনে যাওয়ার বা বৈধ মর্যাদা পাওয়ার সুযোগও তাদের জন্য অত্যন্ত সীমিত থাকবে, তবে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় চিকিৎসাসেবার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সেউতার চিকিৎসক সংগঠনের প্রধান এনরিকে রোভিরাল্টা। তিনি জানান, সীমিতসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী অতিরিক্ত চাপের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। অভিবাসীদের মধ্যে সংক্রামক ডায়রিয়া ও খোসপাঁচড়ার মতো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে এবং সহিংসতায় আহত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। তবে স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া দাবি করেছেন, স্থানীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি, যদিও তা যথেষ্ট চাপের মুখে রয়েছে। তিনি অভিবাসনকে কেবল রোগের সঙ্গে যুক্ত করে দেখার প্রবণতার সমালোচনা করেছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের অনেকেই মরক্কোর দুর্বল কর্মপরিবেশ ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে এসেছেন। এছাড়া নাইজেরিয়া ও সেনেগালসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ সংঘাত, নিরাপত্তাহীনতা ও নিপীড়নের অভিযোগ তুলে আশ্রয়ের আবেদন জানাচ্ছেন। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ৩৪ বছর বয়সী এক নাগরিকের করুণ অভিজ্ঞতার কথাও উঠে এসেছে। তিনি জানান, দুই বছরেরও বেশি সময় আগে বাংলাদেশ ছাড়ার পর দীর্ঘ ও অত্যন্ত বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিয়ে তিনি সেউতায় পৌঁছেছেন। পথে মরুভূমিতে তৃষ্ণায় তার অনেক সঙ্গীর মৃত্যু হতে দেখেছেন তিনি।
সীমিত আয়তনের সেউতায় হাজারো অভিবাসীর উপস্থিতি স্পেনের জন্য নতুন এক মানবিক ও প্রশাসনিক সংকট তৈরি করেছে। একদিকে অভিবাসীদের আশ্রয় ও উন্নত জীবনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় সেবাব্যবস্থার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে সমাধান খোঁজা এখন স্পেনের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: Daily Amar Desh


মন্তব্য