আনোয়ার হোসেন, কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)প্রতিনিধি >>> নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে গেল কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশা আর উত্তর-পশ্চিম থেকে হিড় হিড় করে ধেয়ে আসা হিমের বাতাসে বেড়েছে শীতের প্রকোপ। রাতভর পত্রপল্লব ও ঘরের চালে রিমঝিম বৃষ্টির মত ঝড়ছে শিশির কনা।এতে প্রকৃতি ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছে।রাত থেকে দিনের বেশিভাগ সময় ঘনকুয়াশার চাদরে মোড়ানো থাকছে সড়ক ও বিস্তৃর্ণ জনপদ। এতে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। জেঁকে বসা হাড় কাঁপানো শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি কাহিল হয়ে পড়েছে শিশু-বৃদ্ধরা। সেই সাথে ভোগান্তিতে পড়ছেন খেটে খাওয়া শ্রমওজীবি মানুষ। ঠিকভাবে কাজে যোগ দিতে না পারায় তাদের রুটি রুজিতে টান পড়েছে। শীতজনিত কারণে ছড়িয়ে পড়েছে নিউমোনিয়া, সর্দিকাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, পাতলাখানাসহ নানা মৌসুমি রোগ। এসব রোগে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতাল কতৃপক্ষ এসব রোগের যথাযথ চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। রাতের হিমেল বাতাস, কনকনে শীতলতা, উষ্ণতার মোটা শীত বস্ত্রের অভাব- সব মিলিয়ে শীতার্ত এতিমখানার এতিম শিশু শিক্ষার্থী, জীর্ণ পল্লীসহ আরো অনেক স্বল্প আয়ের মানুষ এক নির্মম কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। অনেকে খড়কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে বাড়ির উঠোনে, রাস্তার পাশে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। এ যেন চিরায়িত গ্রামবাংলার এক প্রতিচ্ছবি।এদিকে ঘনকুয়াশার কারণে সকাল বেলা গ্রামীণ মেঠোপথ ও শহরের রাস্তাগুলোতে ভারি থেকে হালকা যানবাহনগুলো হেড লাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলা চল করছে। বেলা গড়িয়ে সূর্য কিছুটা আলো ছড়ালেও তেমন উত্তাপ নেই। কৃষি জীবি মানুষ বলছেন ঘন কুয়াশা,শীতল বাতাস আর কনকনে ঠান্ডায় মাঠে ফসল বুনন করতে পারছেননা। অপর দিকে শ্রমওজীবি মানুষ জানান কাহিল করা শীত-কুয়াশায় মাঠে কাজ করতে পারছেনা।কাজ করতে গেলে হাত-পা অবস হয়ে যাচ্ছে। অটো ও ভ্যান চালকরা বলছেন, হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডায় গাড়ি নিয়ে সড়কে নামলে হাত-পা জড়োসরো হয়ে যাচ্ছে। তেমন যাত্রীও মিলছেনা। এতে আয় রোজগারও কমেছে। তার পরও পেঠের দায়ে শীতকে উপেক্ষা করে সড়কে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। স্থানীয় হতদরিদ্র পরিবারের শীতার্ত প্রবীণরা বলছেন, আয়-রোজগার না থাকায় মোটা কাপড় কেনার সামর্থ না থাকায় তাদের কষ্ট বেড়েছে। রাতের ঘুমেও মিলছেনা তেমন স্বস্তি। দিনেও তারা ঘর থেকে বের হচ্ছেনা। সব মিলে তাদের জীব যাত্রাকে ভোগীয়ে তুলেছে। প্রাণিকুলও কাহিল করা শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে।উপজেলায় আবহাওয়া অধিদপ্তর না থাকায় শীতের তাপমাত্রার পারদ জানা সম্ভব হয়নি। জনদুর্ভোগ লাঘবে সরকারি-বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।











মন্তব্য