আনোয়ারুল আজিম, নোয়াখালী প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখেছেন নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক ও মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ মাসুদ রানা। তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাঁদের যথাযথ মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে চিঠিটি প্রকাশ করেন তিনি। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। চিঠিতে মাসুদ রানা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে শুধু কেন্দ্রীয় নেতা কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক নেতারাই ত্যাগ স্বীকার করেননি; দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, থানা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের অসংখ্য নেতাকর্মীও মামলা, হামলা, নির্যাতন ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন। দলের দুঃসময়ে অনেকে পরিবার, ব্যক্তিগত জীবন ও জীবিকার কথা উপেক্ষা করে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতারাই যদি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান, তাহলে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের দুঃখ-কষ্ট, ত্যাগ ও অবদানের কথা কে তুলে ধরবে এবং তাঁদের মূল্যায়নই বা কে করবে? খোলা চিঠিতে তিনি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি তার তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাঁদের ত্যাগ ও অবদানকে অবহেলা করে কোনো সংগঠনকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। এ কারণে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি জেলা, উপজেলা, থানা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টির জন্য প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। মাসুদ রানা চিঠিতে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা রাজপথে ছিলেন, সুসময়েও যেন তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়। পদ-পদবি কিংবা পরিচয়ের পরিবর্তে ত্যাগ, অবদান ও দলের প্রতি ভালোবাসাকে মূল্যায়নের প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। চিঠির শেষাংশে তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিকে আরও সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও তৃণমূলবান্ধব রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। নিজেকে তৃণমূলের একজন কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি এই আবেদন জানান। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন ও তাঁদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টি সামনে এনে মাসুদ রানার এই খোলা চিঠি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।





মন্তব্য