২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
ঠাকুরগাঁওয়ে রুহিয়া মাটিতে বিদেশি ফল আনারকলি চাষে সফল উদ্যোক্তা রিমুন উপনির্বাচনে রুহিয়ায় বাবার পক্ষে ধানের শীষের প্রচারণায় মেয়ে ডা. ফাইজা পটিয়ায় নাস্তা কম হওয়ায় শ্বাশুড় বাড়ির নির্যাতনে ৩মাসের অন্ত:সত্বা গৃহবধূর মৃত্যু। সাতকানিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ উত্তেজিত জনতার বাসে আগুন ও ফায়ার সার্ভিস আটকে বিক্ষোভ পটিয়ায় মিনিট্রাকের ধাক্কায় পথচারী নিহত। পটিয়ায় লুট হওয়া চিনি লামা হতে উদ্ধার। পুঠিয়ায় ৫ মাস থেকে নিখোঁজ ভ্যানচালক আনিছুর রহমান চট্টগ্রামে অংকুর বৃত্তি পরীক্ষায় ১৫ শহস্রাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহন খাগড়াছড়ি পানছড়িতে অটোরিকশা-মাহিন্দ্রার সংঘর্ষে এক শিশু নিহত, বিজিবি সদস্যসহ আহত ৩ চার মাসের মধ্যে সাতকানিয়ায় মিনি স্টেডিয়াম: এমপি শাহজাহান চৌধুরী
আন্তর্জাতিক:
অনুমোদন ছাড়াই কেরানীহাটে বাণিজ্য মেলা: অচল মহাসড়ক ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা নারীর নিরাপত্তায় পথ দেখাচ্ছে ‘সেইভ আওয়ার উইমেন’ সাতকানিয়ায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে সংবাদ সম্মেলন। রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা: ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের সহায়তার দাবি এনসিপির নেপালে সাহসী সাংবাদিকতার জন্য শহীদুল ইসলাম বাবরকে ফুলেল শুভেচ্ছা সমাজসেবায় বিশেষ অবদান: স্বর্ণপদক ও সম্মাননা পেলেন নাহিদ উজ্জামান শিল্পী শিমলার মুকুটে নেপাল-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অনন্য স্বীকৃতি জিয়া ও খালেদা জিয়ার নামে থাকা ৫৩৪টিসহ ৫ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের দীর্ঘ দাবি। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ফের ভাইরাল ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সেই চ্যালেঞ্জ জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট; বাঙালির হৃদয়ে চির অমর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
     
             

ঠাকুরগাঁওয়ে রুহিয়া মাটিতে বিদেশি ফল আনারকলি চাষে সফল উদ্যোক্তা রিমুন

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন
আহসান হাবিব রুবেল ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

গাছের সবুজ লতায় ঝুলছে সারি সারি বিদেশি ফল আনারকলি। দেখতে আকর্ষণীয়, স্বাদে টক-মিষ্টি এই ফলের চাষ করে সফলতা পেয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার মণ্ডলাদাম গ্রামের সেনাসদস্য ও তরুণ উদ্যোক্তা রিমুন। বাড়ির পরিত্যক্ত জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা তাঁর বাগানে এখন রয়েছে প্রায় ৫০টি গাছ। ভালো ফলন পাওয়ায় আগামী বছর বাণিজ্যিকভাবে চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। 

বিদেশি ফল প্যাশন ফ্রুট বাংলাদেশে অনেকের কাছে আনারকলি বা ট্যাং ফল নামে পরিচিত। দেশের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ফলের চাষ দেখা গেলেও ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় সমতল ভূমিতে এর চাষ স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রিমুন জানান, ২০২৫ সালে কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়ে প্রথমবারের মতো আনারকলি ফল দেখেন ও খেয়ে দেখেন। ফলটির স্বাদ ভালো লাগায় এর চাষ করার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে ২০২৬ সালে কক্সবাজার থেকে তিনটি জাতের পাঁচটি চারা সংগ্রহ করে বাড়িতে রোপণ করেন। সেই পাঁচটি চারা থেকে বর্তমানে তাঁর বাগানে প্রায় ৫০টি গাছ হয়েছে।গাছে ভালো ফলন এসেছে এবং ফল খেতেও খুব সুস্বাদু।” প্রথমে বাড়ির পরিত্যক্ত জায়গায় কয়েকটি গাছ লাগিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেন। সেখানে ভালো ফলন পাওয়ার পর বাড়ির পাশে রাস্তা-সংলগ্ন জমিতে আরও গাছ রোপণ করেন। তাঁর আশা, প্রতিটি গাছে প্রায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার পর্যন্ত ফল ধরতে পারে। তিনি বলেন, “ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সাধারণত এ ফল খুব একটা পাওয়া যায় না। অথচ কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এলাকায় এর চাহিদা রয়েছে। প্রতি পিস আনারকলি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী বছর ১০ থেকে ২০ শতক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আনারকলি চাষের পরিকল্পনা করছি। সে লক্ষ্যে জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে।” রুহিয়ার মাটিতে নতুন এই বিদেশি ফলের চাষ দেখতে স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রথমবারের মতো গাছে ফলসহ আনারকলি দেখছেন। কেউ কেউ নিজেদের বাড়িতেও এ ফলের চারা লাগানোর পরিকল্পনা করছেন। রামনাথ হাট এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট সাইমুম পারভেজ বলেন, “আমি প্রথমবারের মতো এই ফল দেখলাম এবং খেয়েও দেখেছি। খেতে বেশ ভালো লেগেছে। আমাদের এলাকায় সাধারণত এ ফল পাওয়া যায় না। রিমুনের উদ্যোগ দেখে আমিও বাড়িতে কয়েকটি চারা লাগানোর কথা ভাবছি।”স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “ফলটি আগে কখনো দেখিনি বা খাইনি। আজ প্রথম দেখলাম এবং খেয়ে বেশ ভালো লেগেছে। আমাদের এলাকার একজন তরুণ এমন নতুন ফলের চাষ করছেন, এটি আনন্দের বিষয়। বেকার তরুণেরা কৃষিকাজে আগ্রহী হলে নিজেরাই স্বাবলম্বী হতে পারবেন। আমি আশা করি, রিমুন ভবিষ্যতে ফল বিক্রির পাশাপাশি চারা উৎপাদন করে এলাকার অন্য তরুণদেরও এ চাষে উৎসাহিত করবেন।” রুহিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসিরুল আলম বলেন, “আনারকলি সাধারণত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে দেখা যায়। আমাদের এলাকায় এ ফলের চাষের বিষয়টি সংবাদকর্মীর মাধ্যমে জানতে পেরেছি। রুহিয়ার মণ্ডলাদাম এলাকায় রিমুন নামে একজন তাঁর বাড়ির পাশে এ ফলের গাছ লাগিয়েছেন এবং ভালো ফলন পেয়েছেন বলে জেনেছি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে বাগানটি পরিদর্শন ও চাষাবাদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ফলের চাষ সম্প্রসারণে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।” রুহিয়ার মাটিতে সেনাসদস্য রিমুনের পরীক্ষামূলক আনারকলি চাষ স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর এই উদ্যোগ বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারিত হলে ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য এলাকাতেও এ ফলের চাষ ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে নতুন ফল চাষে আগ্রহী কৃষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য তৈরি হতে পারে কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন সুযোগ।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page