আনোয়ারুল আজিম নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার হাটপুকুরিয়া-ঘাটলাবাগ ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের কয়েকজনকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণপুর এলাকার দিদারের দোকানের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা, মারধর, দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার, টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে চাটখিল থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।এক পক্ষের অভিযোগে ফারুক আহম্মেদ দাবি করেন, স্থানীয়ভাবে মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার কারণে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন প্রতিপক্ষের লোকজন হকিস্টিক, রামদা, কাঠের বাটাম, ক্রিকেটের স্ট্যাম্পসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। এতে কয়েকজন আহত হন। অভিযোগে তার কাছ থেকে নগদ ৮ হাজার ৫০০ টাকা ও একটি ঘড়ি নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি একটি মোটরসাইকেল আটকে রাখার দাবি করা হয়েছে।অন্যদিকে, মোরশেদ আলম সুমনের অভিযোগে বলা হয়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন লোহার রড, কাঠের বাটাম ও জিআই পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ও অপর একজনের ওপর হামলা করে। এতে তারা আহত হন। অভিযোগে একটি মুদি দোকান থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা ও প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যাওয়ারও দাবি করা হয়েছে।দুই পক্ষের অভিযোগেই পরস্পরকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। উভয় পক্ষের আহতদের চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়ার তথ্যও অভিযোগপত্রে রয়েছে।এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মুন্নাফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন বলে জানা গেছে।ঘটনার পর উভয় পক্ষই একে অপরকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। দুই পক্ষই নিজেদের দাবির পক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।স্থানীয়রা জানান, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের শনাক্ত করা গেলে এলাকায় উত্তেজনা কমে আসবে বলে তারা মনে করছেন।


মন্তব্য