-
আরাফাত তালুকদার জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে নামজারির কাজে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে চরম বিপাকে পড়েছেন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সোবাহান। অনিয়মের বিষয়টি প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসায় তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে উপজেলা প্রশাসন। ঘটনার সূত্রপাত মহিউদ্দিন খন্দকার নামের এক সেবাপ্রার্থীর অভিযোগ থেকে। তিনি ছয়টি দলিলের নামজারি করাতে ওই কার্যালয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ফি দিয়ে সেবা পাওয়ার বদলে কর্মকর্তা সোবাহান উল্টো ৭০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে বসেন। শেষমেশ রফা হয় চারটি নামজারির বদলে ২০ হাজার টাকায়। চুক্তি অনুযায়ী ভুক্তভোগী অগ্রিম ১০ হাজার টাকা পরিশোধও করেন, যেখানে কথা ছিল বাকি টাকা কাজ শেষে দেওয়া হবে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও মাত্র একটি নামজারি সম্পন্ন করে বাকিগুলো ঝুলিয়ে রাখা হয়। অভিযোগের পক্ষে টাকা লেনদেন ও গুণতে থাকার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রশাসনে চাউর হলে বিষয়টি গুরুত্ব পায়। আইন অনুযায়ী একটি নামজারির নির্ধারিত সরকারি ফি মাত্র ১ হাজার ১৭০ টাকা। সেখানে বিপুল অংকের অতিরিক্ত টাকা লেনদেনের প্রমাণ মিলতেই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেন রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান। ইউএনও জানান, শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিধিমালা অনুযায়ী ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে তার লিখিত জবাব জমা নেওয়া হয়েছে। কারণ দর্শানোর জবাব যদি সন্তোষজনক না হয়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও অভিযুক্ত কর্মকর্তা শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, তিনি এমন কোনো লেনদেনের সাথে যুক্ত নন। সাময়িক বরখাস্তের পর এখন প্রশাসনিক ও বিভাগীয় তদন্ত শেষে তার ভাগ্যে চূড়ান্ত কী সিদ্ধান্ত আসছে, সেটির অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।


মন্তব্য