সানিফ চৌধুরী, হাটহাজারী:
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সোম পাড়ার মাদল বাবুর বাড়িতে মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট এই আগুনে মুহূর্তের মধ্যেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ৫টি পরিবারের বসতঘর।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে আচমকা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। বসতঘরগুলো টিন ও কাঁচা বেড়ার তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই ৫টি ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। এতে ঘরের আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, নগদ জমানো টাকা এবং স্বর্ণালংকারসহ প্রায় সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই রক্ষা করার সুযোগ পাননি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা:
১. মিলন দে (পিতা: গোপাল দে)
২. জীবন দে (পিতা: গোপাল দে)
৩. তপু দাশ (পিতা: অশর্নি কুমার দাস)
৪. খোকন মজুমদার (পিতা: মৃত রঞ্জন কুমার দাশ)
৫. মিলন নাথ (পিতা: কৃষ্ট মোহন নাথ)
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলালের নির্দেশনায় দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মির্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং সার্বিক সহায়তার আশ্বস্ত করেন।পাশাপাশি, ঘটনার পরপরই সরকারহাট গণি হসপিটালের স্বত্বাধিকারী জনাব উসমান গণি সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে নগদ ১৫,০০০ টাকা অনুদান প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস জানান।হঠাৎ সবকিছু হারিয়ে সহায়-সম্বলহীন এই ৫টি পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি পুনর্বাসন সহায়তার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।


মন্তব্য