২৮শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
বিনাবেতনে ১৩ বছর: ৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২০ হাজার শিক্ষকের মানবেতর জীবন। চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে গুলি বিনিময়ের পর কালা মোবারকসহ গ্রেপ্তার ৪ চট্টগ্রামে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ, দুই মার্কেটে ১৯ লাখ টাকা জরিমানা সখিপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও এক বছরের শিশু সন্তান নিহত বাঁশখালীর পুকুরিয়ায় মাদকবিরোধী র‍্যালি ও পথসভা। চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার মাসিক আইনশৃংখলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত আড়াইহাজারে পুকুর থেকে ৮ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার সাতকানিয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম: প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে তানোর: ইউএনও নাঈমা খানের সাফল্য পটিয়া এমপির উপস্থিতিতে জশনে জুলুসে হাজারো মানুষের ঢল।
আন্তর্জাতিক:
নেপালে হিমবাহ ধসে বন্যা: নিহত ৩১, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সেবায় অটল ইউএনআরডব্লিউএ, কার্যক্রম বন্ধের দাবি প্রত্যাখ্যান বদলাচ্ছে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের চিত্র: দুবাইয়ের ট্রানজিট প্রবণতা ও নতুন ডিজিটাল নিয়ম নেপালে বন্যা ও ভূমিধস: ১৫৭ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ চার শতাধিক জাতিসংঘের ভোকেশনাল কেন্দ্রে ইসরাইলি বাহিনীর তল্লাশি, অগ্নিনির্বাপণে বাধা বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত: ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপ ইসলামাবাদের হাসপাতালে এসি বিস্ফোরণে ১৫ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত: শুরু হয়েছে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপে ইরান কি আরও কঠোর সামরিক পথে হাঁটবে? বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত
     
             

বিনাবেতনে ১৩ বছর: ৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২০ হাজার শিক্ষকের মানবেতর জীবন।

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

আব্দুল্লাহ আল মারুফ নিজস্ব প্রতিবেদক >>> দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বিনাবেতনে অজপাড়াগাঁয়ের কোমলমতি শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন বাদ পড়া ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষক। উচ্চশিক্ষিত (অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী) এসব শিক্ষকের জীবন আজ চরম অবহেলা, আর্থিক অনটন ও বৈষম্যের এক করুণ আলেখ্যতে পরিণত হয়েছে।

ইতিহাসের প্রেক্ষাপট ও নামকরণের ইতিহাস>>> বাংলাদেশে সর্বপ্রথম বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন এবং শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত বেতন-ভাতা চালুর ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ভুক্তভোগী সূত্র জানায়, বাদ পড়া এই বিদ্যালয়গুলোর একটি বড় অংশে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত ৫৩৪টি বিদ্যালয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা এই অঞ্চলের শিক্ষার প্রসারে দীর্ঘকাল ধরে ভূমিকা রেখে চলেছে।

বর্তমান সংকট ও ভুক্তভোগীদের আকুতি >>> চলমান এই বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে চরম দুর্দশাগ্রস্ত শিক্ষকেরা সরকারের উচ্চপর্যায়ে বারবার আকুল আবেদন জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, ২০ হাজার শিক্ষকের চাকরি অবিলম্বে জাতীয়করণ করে তাদের পরিবার নিয়ে অন্তত দু’মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ দেওয়া হোক।

প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও নির্দেশনার বর্তমান অবস্থা >>> চিঠি ও যাচাই-বাছাই: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে গত ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয়করণের নির্দেশনাসংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি জারি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের ১১টি জেলা ও ১১টি উপজেলায় সরেজমিনে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে।

কনসালটেশন কমিটির অনুমোদন: মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত বিশেষ কনসালটেশন কমিটি ৫ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের চূড়ান্ত লক্ষ্যে অনুমোদন প্রদান করে। ওই নথিতে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা, সচিব ও উপসচিবসহ নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা স্বাক্ষর করেছিলেন।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ: কম খরচে বিপুল কর্মসংস্থান >>> প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাক্কলিত হিসাব অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি জেলায় গড়ে ৭৯টি করে বিদ্যালয় এই জাতীয়করণের আওতায় আসবে। ২০ হাজার শিক্ষকের বেতনের জন্য সরকারের বাৎসরিক ব্যয় হবে মাত্র ৪০ কোটি টাকা-যা বর্তমান জাতীয় বাজেটের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য এবং সরকারের জন্য কোনো আর্থিক বোঝা নয়। অথচ এর মাধ্যমে সরাসরি ২০ হাজার পরিবারের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

শিক্ষার মান ও শিশুদের মৌলিক অধিকারের বঞ্চনা >>> কেবল শিক্ষকেরাই নন, এই ৫ হাজার বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রায় ৮ লক্ষাধিক কোমলমতি শিশুও বঞ্চিত হচ্ছে সরকারের প্রদত্ত উপবৃত্তি, মিড-ডে মিল এবং অন্যান্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে। এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক মান ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে।

মানবেতর জীবনযাপন ও সামাজিক অবক্ষয় >>> বর্তমান বাজারমূল্যে একটি পরিবারের ন্যূনতম সংসার চালাতে যেখানে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন, সেখানে শিক্ষকেরা টানা ১৩ বছর ধরে একটি টাকাও সরকারি অনুদান বা বেতন পাচ্ছেন না। পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে অনেক শিক্ষক বাধ্য হয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি টিউশনি, অটো-রিকশা চালানো কিংবা রাতের বেলা সিকিউরিটি গার্ডের মতো পেশায় জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয়েছেন।

চিকিৎসা ও তাদের ভবিষ্যত >>> চিকিৎসা ও ভবিষ্যতের চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটছে তাদের। বিনা বেতনে কাজ করতে করতে অনেক শিক্ষক ইতোমধ্যে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন কিংবা অবসরে গেছেন। যাদের বয়স শেষ পর্যায়ে, তাদের নতুন কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগও নেই। অর্থাভাবে তারা বৃদ্ধ মা-বাবার চিকিৎসা কিংবা নিজের সন্তানের পড়াশোনার খরচ মেটাতে পারছেন না।শিক্ষকতা একটি অত্যন্ত মহান পেশা। প্রাথমিক শিক্ষার শক্ত ভিত গড়ে দেওয়া এই মানুষগুলোকে আজ তাদের ন্যায্য পাওনা ও বেতন-ভাতার জন্য রাজপথে ধুলাবালির মাঝে আন্দোলন করতে হচ্ছে-যা জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও হৃদয়বিদারক। আমাদের বিনীত আকুতি, অবিলম্বে ২০ হাজার শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণ করে সমাজে মাথা উঁচু করে ও মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page