সিঙ্গাপুরে জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় পরিবারগুলোকে সন্তান নিতে উৎসাহিত করতে বড় ধরনের প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং জানিয়েছেন, প্রতিটি নবজাতকের জন্মের পর থেকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি সহায়তা হিসেবে বাবা-মাকে প্রায় ৪০ হাজার পাউন্ড সমমূল্যের আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে। গত বছর দেশটিতে মোট প্রজনন হার রেকর্ড সর্বনিম্ন ০.৮৭-এ নেমে আসে, যা ২০২৪ সালে ছিল ০.৯৭। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সিঙ্গাপুরের জন্মহারের ব্যবধান আরও কমে এসেছে। এছাড়া চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির ফলে মানুষের গড় আয়ু বাড়ায় সিঙ্গাপুর দ্রুত একটি ‘সুপার-এজড’ বা অতিবয়স্ক সমাজে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে।
নতুন এই সহায়তা কর্মসূচিকে পরিবারগুলোর জন্য একটি ‘মৌলিক পরিবর্তন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এই পরিকল্পনার আওতায় সন্তান জন্মের সময় পরিবারকে ১০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার বা প্রায় ৭ হাজার ৩৩০ পাউন্ড ‘বেবি গিফট’ দেওয়া হবে। সন্তানের ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে সহায়তা অব্যাহত থাকবে, যার মধ্যে উচ্চশিক্ষার ব্যয় মেটাতে বিশেষ অর্থ বরাদ্দ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, নার্সারি সুবিধা এবং শিশুর যত্নের জন্য ছুটির খরচ বহনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বড় পরিবারগুলোর জন্য সহায়তার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি রাখা হয়েছে এবং বাবা-মায়ের ছুটির সুযোগও বাড়ানো হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং গত সপ্তাহান্তে বার্ষিক ন্যাশনাল ডে র্যালিতে বলেন, বর্তমান সময়ে পরিবারগুলো নানামুখী চাপের মুখে রয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, যারা সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, সরকার তাদের পাশে থাকবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়া সন্তান থাকা পরিবারগুলোকে ভর্তুকিযুক্ত আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম বাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে।
সিঙ্গাপুর সরকার আগে থেকেই পরিবারগুলোকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা খুব একটা সফল হয়নি। নতুন কর্মসূচিতে এককালীন অর্থের পরিবর্তে শিশুর শৈশব ও কৈশোরের বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদী সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো দেশের জনসংখ্যার ২১ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি হলে তাকে ‘সুপার-এজড’ সমাজ বলা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরের প্রতি চারজন নাগরিকের একজনের বয়স এই সীমার মধ্যে থাকবে।
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সন্তান নেওয়ার প্রবণতা কমে যাওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত মাসে ইউগভের করা এক জরিপে ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সী ৪৯৬ জন সিঙ্গাপুরবাসী অংশ নেন। এতে দেখা যায়, প্রায় এক-চতুর্থাংশ অংশগ্রহণকারীর কোনো সন্তান নেই এবং ভবিষ্যতেও তারা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন না। মূলত আর্থিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ার আগে সন্তান নেওয়া পিছিয়ে দেওয়া বা একেবারেই সন্তান না নেওয়ার প্রবণতা তরুণদের মধ্যে বাড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একজন নারী তার জীবদ্দশায় গড়ে যতসংখ্যক সন্তানের জন্ম দেন, এই হার তারই হিসাব।
সূত্র: মানবজমিন





মন্তব্য