২২শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
নগনগরকান্দায় সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর স্কুল এন্ড কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা দেখলেন শিক্ষক-পিয়ন-অফিস সহকারী! ভোলার দৌলতখানে জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে দুই বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী ঘরোয়া ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা: ২৫ আগস্ট কি শুরু হবে মৌসুম? ইরানের ওপর ইইউর নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেবে না জর্জিয়া: জাতীয় স্বার্থকেই প্রাধান্য হরমুজ প্রণালিতে অনলাইন নিরাপত্তা ঘটনায় বন্ধের আহ্বান কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শাহজালাল বিমানবন্দরে ধারাবাহিক অভিযানে ৩ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ নেত্রকোনায় শিশুদের জন্য আধুনিক শিশুপার্ক নির্মাণ এখন সময়ের দাবি নায়করাজ রাজ্জাকের প্রয়াণের ৯ বছর: এক কিংবদন্তির ফিরে দেখা জীবন নায়করাজ রাজ্জাকের নবম মৃত্যুবার্ষিকী: চলচ্চিত্রাঙ্গনে কেন নেই বিশেষ কোনো আয়োজন? মন্ত্রিসভায় রদবদল: নতুন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন
আন্তর্জাতিক:
ইরানের ওপর ইইউর নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেবে না জর্জিয়া: জাতীয় স্বার্থকেই প্রাধান্য হরমুজ প্রণালিতে অনলাইন নিরাপত্তা ঘটনায় বন্ধের আহ্বান কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইরানের ভাগ্য পশ্চিমা শক্তির হাতে লেখা হবে না: স্পিকার গালিবাফ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস কাতারের ইরানের অর্থনীতি পঙ্গু করতে ট্রাম্পের নতুন কৌশল: কতটা সফল হবে এই অর্থনৈতিক যুদ্ধ? সাবেক প্রেমিকাকে নিয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথোপকথন: ফ্লোরিডায় গোল্ডম্যান স্যাকসের সাবেক বিশ্লেষক আটক ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা, বাধা চীন-রাশিয়া জ্বালানি ও আর্থিক সংকট নিরসনে কাতারের দুই মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইন্দোনেশিয়ায় ভ্রমণে মিলবে ফ্রি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট: গারুডা ইন্দোনেশিয়ার বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন হলে চিকিৎসার জন্য ইমরান খানকে বিদেশে পাঠানো হতে পারে: পাক সরকার
     
             

নগনগরকান্দায় সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর স্কুল এন্ড কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা দেখলেন শিক্ষক-পিয়ন-অফিস সহকারী!

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

মিজানুর রহমান বিশেষ প্রতিনিধি, ফরিদপুর >>> ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের দহিসারা গ্রামে অবস্থিত দহিসারা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার খাতা নিয়মবহির্ভূতভাবে দেখার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি ও কমন রুমে বসে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অফিস সহকারী, পিয়ন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দিয়ে পরীক্ষার খাতা দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় খাতা দেখার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০০৮ সালে ‘সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নাম দহিসারা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আত্তাপ হোসেন।অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আত্তাপ হোসেন হেড এক্সামিনার হিসেবে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড থেকে নিজে ৬০০টি খাতা সংগ্রহ করেন। এছাড়া কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খাতা নিরীক্ষণের জন্য তার কাছে পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে তার কাছে প্রায় ২ হাজার ১০৪টি খাতা রয়েছে বলে জানা গেছে।তবে এসব খাতা নির্ধারিত পরীক্ষক বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের পরিবর্তে হাইস্কুলের শিক্ষক, অফিস সহকারী, পিয়ন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দিয়ে দেখানো হয়েছে।দিনের বেলায় প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি ও কমন রুমে বসেই এসব খাতা দেখা হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরিতে কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী এইচএসসি পরীক্ষার খাতা দেখছেন। ভিডিওতে তাদের খাতা মূল্যায়ন করতে দেখা যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।এ বিষয়ে দহিসারা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও হেড এক্সামিনার আত্তাপ হোসেন বলেন, “আমি হেড এক্সামিনার। বোর্ড থেকে আমি নিজে ৬০০টি খাতা নিয়ে এসেছি। বাকি খাতাগুলো বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিরীক্ষণের জন্য আমার কাছে এসেছে। সব মিলিয়ে ২ হাজার ১০৪টি খাতা আমার কাছে রয়েছে। আমি এসব খাতা শিক্ষকদের দিয়ে নিরীক্ষণ করিয়েছি।”খাতা দেখার সময় ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন।অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, অধ্যক্ষ আত্তাপ হোসেন নিজেই বোর্ড থেকে খাতা নিয়ে এসে তাদের দিয়ে খাতা দেখিয়েছেন। তারা অধ্যক্ষের অধীনে থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই খাতা দেখতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।তাদের অভিযোগ, এভাবে খাতা মূল্যায়নের মাধ্যমে অধ্যক্ষ আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছেন। টিউটর খরচ বছরে ৭ লাখ টাকা পায় অধ্যক্ষ এবং এর মধ্যে ২০ হাজার টাকা দেয় মাত্র শিক্ষকদের দেয়।এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হাসান বলেন, “এইচএসসি পরীক্ষার খাতা কোনোভাবেই বিদ্যালয়ের শিক্ষক বা অন্য কর্মচারীদের দিয়ে দেখানো কিংবা নিরীক্ষণ করার সুযোগ নেই। যদি এমনটি হয়ে থাকে, তাহলে এটি গুরুতর অনিয়ম। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”ফরিদপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিষ্ণু পদ ঘোষাল বলেন, “বোর্ড থেকে যে শিক্ষক বা পরীক্ষক খাতা গ্রহণ করবেন, নিয়ম অনুযায়ী তাকেই খাতা দেখতে হবে। অন্য কাউকে দিয়ে খাতা দেখানো যাবে না। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা হাইস্কুলের শিক্ষক বা কর্মচারীদের দিয়ে দেখানো অনিয়ম ও অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এদিকে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা শিক্ষক, অফিস সহকারী, পিয়ন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দিয়ে দেখানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেকেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page